ব্রিগেড ময়দানে রবিবার ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ভাল বিক্রিবাটার আশায় সেখানে প্যাটিস বিক্রি শুরু করেন রিয়াজুল। গীতাপাঠ চলাকালীন নন-ভেজ খাবার বিক্রি নিয়েই আপত্তি ওঠে বলে তাঁর অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে প্রায় তিন হাজার টাকার খাবার নষ্ট হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই কলকাতায় ফিরতে ভয় পাচ্ছেন রিয়াজুল। এমনকি লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের দিনেও শহরে আসেননি তিনি।
এই ঘটনায় পুলিশ দুটি আলাদা অভিযোগ পেয়েছে। ছয়-সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তিন জনকে গ্রেফতারও করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মালপত্র নষ্টের মতো ধারায় মামলা হয়েছে। যদিও গ্রেফতারের পর অভিযুক্তরা জামিনে মুক্তি পেয়ে যান—এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে প্যান্ডালের বাইরে থাকা ফুটপাথের প্যাটিস বিক্রেতারা এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন সরব হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, জীবিকার প্রশ্নে এ ধরনের হেনস্তা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তীব্র। তৃণমূল নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে সামাজিক সহিষ্ণুতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরে নিন্দা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় পাশের ফুটপাথে খাবার বিক্রি করা কোনও অপরাধ নয়, এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অন্য দিকে, অভিযুক্তদের জামিনে মুক্তির পর এক বিজেপি নেতার তরফে তাঁদের ‘সম্মানিত’ করার খবর সামনে আসায় বিতর্ক আরও ঘনিয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—ধর্ম, রাজনীতি ও রুজি-রুটির সংঘাতে সমাজ কোন পথে যাচ্ছে?
এই সবের মাঝেই আতঙ্কে রিয়াজুলের পরিবার। তাঁদের কথায়, রিয়াজুলের আপাতত কলকাতায় না ফেরাই ভাল। জীবিকা যেমন অনিশ্চিত, তেমনই নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।