
শেষ আপডেট: 31 October 2023 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গোপন সুত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে ক্যানিং স্টেশন থেকে নারী পাচারকারী সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তার হেফাজত থেকে এক নাবালিকাকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
একবছর আগে ক্যানিংয়ের তালদি এলাকার এক বধূ শিশুপুত্র-সহ নিখোঁজ হন। ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল ওই বধুর পরিবার। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে ক্যানিং থানার পুলিশ। একমাসের মধ্যেই দিল্লির খেড়িপুর থানা এলাকার একটি হোটেল থেকে ওই বধূকে উদ্ধার করা হয়। তবে খোঁজ মেলেনি তাঁর তিন বয়সের শিশুপুত্রের। পরবর্তীতে নানা সূত্রে খবর পেয়ে ক্যানিং থানার পুলিশের একটি দল পাঁচ-পাঁচবার দিল্লিতে যায়। তবে প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় গোপন সুত্রে খবর পায় ক্যানিং থানার পুলিশ। তড়িঘড়ি ক্যানিং স্টেশনে হাজির হয়। সেখান থেকে পাকড়াও করা হয় শাহনাজ পারভিন নামে একজনকে। ধৃতকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয়।
স্থানীয়সুত্রে জানা গিয়েছে, ক্যানিংয়ের ওই মহিলার বিয়ে হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের লাগামহীন অত্যাচারে জর্জরিত হতে হয় তাঁকে। একটি ছেলেও হয় তাঁর। অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকায় বেশ কয়েকবার বাপের বাড়িতেও চলে আসেন তিনি। আবার ফিরে যেতে হয় শ্বশুরবাড়িতে। এই ভয়াবহ সময়ে ক্যানিংয়ের ট্যাংরাখালির যুবক সিরাজ সেখ, তালদির যুবক মনিরুল গায়েন ও শাহনাজ পারভিনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। তপসিয়া এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ পারভিন। অভিযোগ, ওই বধূকে মোটা টাকা মাইনের কাজের টোপ দেয় তারা।
শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার থেকে বাঁচতে ফাঁদে পা দেয় বধূ। একরত্তি শিশুকে নিয়েই দুই যুবক ও এক মহিলার হাত ধরে দিল্লিতে পাড়ি দেয়। সেখানে একটি হোটেল রেখে ওই বধূকে বিক্রি করার ছক কষে। পরে ওই বধুর ছেলেকে কেড়ে নিয়ে অন্য কোথাও লুকিয়ে রাখে। ক্যানিং থানার পুলিশ বধূকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি দুই যুবককে গ্রেফতার করে। ধৃতরা পরে জামিনে ছাড়া পায়। অন্যদিকে ক্যানিং থানার পুলিশ বধুর একরত্তি শিশুকে উদ্ধার করতে এবং মহিলা পাচারকারীকে ধরার জন্য পাঁচবার দিল্লিতে যায়। তবে প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয় তাদের। সোমবার গোপন সুত্রে খবর পেয়ে ক্যানিং থানার পুলিশ ক্যানিং স্টেশন থেকে শাহনাজকে গ্রেফতার করে। তার হেফাজত থেকে আরও এক নাবালিকাকে পাচারের আগে উদ্ধার করে।
ক্যানিং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দিবাকর দাস জানিয়েছে, ধৃত মহিলাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শিশুটি কোথায় রয়েছে সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে পুলিশ। কোনও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে তাদের যোগ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।