দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে, মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত পশুপাখিরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেক দূরে সরিয়ে দিলেও, আতঙ্ক ভুলতে পারছেন না অনেকে। গ্যাস লিকের পরে আগুন, তার পরে বিস্ফোরণ। এখনও বিস্ফোরণে কেঁপে কেঁপে উঠছে চারপাশ। ৪০ কিলোমিটার দূর থেকেও টের পাওয়া যাচ্ছে সেই কম্পন! বস্তুত, এত বড় বিপর্যয় কখনও দেখেননি অসমের তিনসুকিয়ার মানুষ। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, এ আগুন এখন নিয়্ন্ত্রণে আসার কোনও আশাই দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা ৪০ কিলোমিটার দূরের ত্রাণ শিবিরের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরেও বলছেন "প্রথমে গ্যাস লিকের আতঙ্ক, তার পরে আগুন! সব ফসল পুড়ে গেল চোখের সামনে। কেঁপে উঠছিল জমি। কিচ্ছু করতে পারলাম না, শ্বাসই নিতে পারছিলাম না আমরা। এখনও চোখ জ্বালা করছে। ধোঁয়া দেখতে পারছি এত দূর থেকেও।"

মঙ্গলবার পূর্ব অসমের তিনসুকিয়া জেলার বাগজানের একটি ওএনজিসি তেলের খনিতে আচমকাই আগুন লাগে বলে খবর মেলে৷ পরে জানা যায়, শেষ তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ওই খনি থেকে ক্ষতিকারক গ্যাস লিক করছিল। এমনকি সেই সমস্যা খতিয়ে দেখতে সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দলকেও নিয়ে আসে অসম সরকার ও ওএনজিসি কর্তৃপক্ষ৷
অভিযোগ, ওই ক্ষতিকর গ্যাস লিকের কারণে প্রভাবিত হতে শুরু করে এলাকার জীব বৈচিত্রে পরিপূর্ণ জাতীয় উদ্যান এবং জলাভূমি। অনেক পড়ে সক্রিয় হয় সরকার ও সংস্থা কর্তৃপক্ষ। ততক্ষণে ওই তেলের কুয়োতে আগুন লেগে যায়। উদ্ধারকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়লেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি আগুন। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দমকলের দুই কর্মী। ওএনজিসি-র দুই কর্মীও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু তার পরেও খনির আগুন নেভানোর কোনও উপায় বের করতে পারেননি কেউ। ইতিমধ্যেই এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

ইতিমধ্যেই এই বিপর্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি জানিয়েন, প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে প্রায় ২৫-২৮ দিন সময় লাগবে। তবে ঘটনাস্থল থেকে সকলকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
বাঘজানের ১২টি শিবিরে ইতিমধ্যেই ৭০০০ মানুষকে রাখা হয়েছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয় বলেই স্থানীয় মানুষের অভিযোগ। এই করোনা পরিস্থিতিতে রীতিমতো গা ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। বাচ্চাদের খাওয়ার খুব অসুবিধা হচ্ছে বলেও অভিযোগ মায়েদের। এলাকার বেশিরভাগ শ্রমিক পরিবার ঠাঁই নিয়েছেন সেখানে।
বাঘজানের বাসিন্দা সঞ্জীব মোরান বলছিলেন, "প্রচণ্ড ভয় করছে। আজ থেকে নয়, গত ১৫ দিন ধরে এই গ্যাস লিকের আতঙ্ক নিয়ে বাঁচছি আমরা। শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল সবার। কোনও গুরুত্বই দেয়নি খনির মালিকরা। গোটা গ্রাম শেষ হয়ে গেল। এখনও জমি কাঁপছে মাঝেমাঝে।"

অসম সরকারের তরফে জানানো হয়েছে., কোন গাফিলতির জেরে এত বড় বিপর্যয় ঘটল তা খুঁজে বার করতে ইতিমধ্যেই অনুসন্ধান কমিটি বসানো হয়েছে। গুয়াহাটি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে বুধবার।