এমন হতাশার মরশুম শেষ কবে
ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ক্লাবে গিয়েছে, রেকর্ডবুক খুললেও পাওয়া যাবে না। আইএসএলে (ISL) লজ্জার মরশুম শেষ করল লাল হলুদ দল। ৯৪ বছর আগে একবার কলকাতা লিগ (Kolkata League) থেকে অবনমন ঘটেছিল ইস্টবেঙ্গলের। তারপর এত বড় দলের এমন হাল হয়নি।
আইএসএলের সঙ্গে কলকাতা লিগের তুলনা চলে না। কিন্তু যে দলটি গতবছর শতবর্ষ পেরলো, তারা লিগের একেবারে নিচে শেষ করছে, এটি বাংলা ফুটবলের পক্ষে করুণ দৃশ্য। আইএসএলে অবনমনের নিয়ম থাকলে হীরারাও নেমে যেতেন, কিন্তু সেটি হল না যেহেতু নিয়ম নেই এই আসরে।
১৯২৮ সালে কলকাতা লিগে সবার নিচে শেষ করেছিল লাল হলুদ দল। নেমে গিয়েছিল দ্বিতীয় ডিভিশনে। আইএসএলে অবনমন থাকলে ৯৪ বছরের লজ্জা ফিরত। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে জিতলে অন্তত দশম স্থানে থাকা নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের সঙ্গে সমসংখ্যক পয়েন্টে শেষ করত তারা। সেটিও পারল না, ২০ ম্যাচে মাত্র ১১ পয়েন্টের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হল পেরোসেভিচদের। অন্যদিকে শেষ ম্যাচে জয়ের ফলে সুনীল ছেত্রীদের বেঙ্গালুরু এফসি শেষ করল ষষ্ঠ স্থানে।
https://twitter.com/IndSuperLeague/status/1500137996171247616
লিগের শেষ ম্যাচে শনিবার বেঙ্গালুরু (Bengaluru) এফসির বিরুদ্ধে ০-১ হেরে টেবিলের লাস্ট বয় হওয়া নিশ্চিত করে ফেলল লাল হলুদ ব্রিগেড।
Ranji Bengal: জয়ের প্রহর গুনছে বাংলা, ৮ উইকেট নিলেই মনোজরা রঞ্জির নকআউটে
গোটা মরশুমে মাত্র একটি জয়, তিন বার কোচ বদল। বিতর্কের মরশুমের শেষটা অন্তত জয় দিয়ে হোক, সেটাই চেয়েছিলেন দলের সমর্থকরা, সেটিও পারেননি স্প্যানিশ কোচের দল। রেনেডি সিং ভাল করছিলেন, তাঁকে সরিয়ে বিদেশী কোচ এনে কী লাভ হল, তা বিনিয়োগকারী সংস্থার আধিকারিকরা বলতে পারবেন।

সুনীল ছেত্রী ২৪ মিনিটেই ম্যাচের একমাত্র গোল করে যান। আইএসএলের ইতিহাসে প্ৰথমবারের মত কোনও নেপালি তারকা খেলতে নেমেছিলেন এদিন। ইস্টবেঙ্গল নামিয়ে দিয়েছিল কয়েকদিন আগে সই করানো অনন্ত তামাঙকে। মূলত তাঁর ব্যর্থতাতেই গোলটি হয়েছে।
বিরতির পরেও সুনীলরা বহু গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু লাল হলুদের শেষ দূর্গে থাকা গোলরক্ষক শুভম সেনের তৎপরতায় দল গোল হজম করেনি। না হলে আরও হতাশাকর হত তাদের শেষটি।
গত ম্যাচ থেকে দলে পাঁচটি বদল এনে মাঠে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। নেপালের অনন্ত তামাঙয়ের অভিষেক হয়েছে তো বটেই, লাল হলুদের হয়ে প্রথম মাঠে নামেন শুভ ঘোষও, যদিও সুবিধে করতে পারেননি।