দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিনে পাড়ি দিয়েছেন তিনি। জিনজিয়াং প্রদেশে ডিটেনশন ক্যাম্পে কীভাবে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বন্দি করে রাখছে জিনপিং সরকার— তার পর্দাফাঁস করেছেন। কোনও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ছাড়াই। স্রেফ পেশার টানে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেঘা রাজাগোপালনের এহেন নির্ভীক সাংবাদিকতাকে কুর্নিশ জানিয়ে এ বছরের পুলিৎজার সম্মানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। শুধুমাত্র সাংবাদিক মহলে নয়। কখনও চিন, কখনও কাজাখস্তানে গিয়ে উদ্বাস্তু চিনা মুসলিমদের সাক্ষাৎকার নিয়ে, তারপর ফিরে এসে প্রযুক্তির সাহায্যে যেভাবে ক্যাম্পগুলিকে চিহ্নিত করেছেন মেঘা, তা নেটবিশ্বেও আলোড়ন তুলেছে।
সবাই ধন্য ধন্য করছে। ভেসে আসছে লাখো শুভেচ্ছাবার্তা। যাদের অনেকটাই নিখাদ। কিছু কিছু আতিশয্যে মোড়া।
কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও মেঘার নজর টেনেছে তাঁর বাবার পাঠানো মেসেজ। হোয়াটসঅ্যাপে মেয়ের পিঠ চাপড়ে ঠিক কী বলেছেন তিনি?
সেলিব্রেশনের আবহে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে তার স্ক্রিনশট পোস্ট করতে কিন্তু ভুলে যাননি মেঘা। যেখানে ফুটে উঠেছে তাঁর বাবার পাঠানো বার্তা— 'অভিনন্দন মেঘা। এক্ষুনি মায়ের থেকে জানলাম।' এটা প্রথম মেসেজ। তার পরেরটা? 'পুলিৎজার প্রাইজ। খুব ভালো।'
ব্যাস! এটুকুই। কোনও ইমোজি নেই। নেই বিস্ময়বোধক চিহ্নও! যতিচিহ্নের এই কার্পণ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে নেটিজেনদের। আর আছড়ে পড়েছে সরস সরস একাধিক মন্তব্য।
পোস্টের সঙ্গে মেঘার ক্যাপশন ছিল— 'ভারতীয় বাবাদের প্রতিক্রিয়া বুঝে নিন।' যার তলায় একজন লেখেন, 'দুঃখ পেও না। তোমার বাবা নোবেলের অপেক্ষা করছেন।' আরেকজনের বিশ্লেষণ, 'মনে হয় মেঘা ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হননি বলে তিনি আজও মর্মাহত।' কেউ কেউ বলেন, 'মেঘার বাবা চিন্তা করছেন তাঁর মেয়ে পুলিৎজার প্লাস পায়নি কেন!' কিংবা 'চারটে বাক্য। শূন্য বিস্ময়বোধক চিহ্ন। অসাধারণ!'
যদিও পুলিৎজার-বিজয়িনীকে 'সান্ত্বনা' জানিয়ে অনেকে যোগ করেন, 'চিন্তা কোরো না। এতক্ষণে তোমার বাবা পাশের বাড়ির নিন্দুক কাকিমাকে এই সাফল্যের কথা শুনিয়ে এসেছেন।' কিংবা, 'একবার ভেবে দেখো, যারা তোমার সঙ্গে বেড়ে উঠেছিল, তাদের আজ কত কথা শুনতে হচ্ছে!'
পাশাপাশি মেঘার বাবার পক্ষ নিয়ে কেউ কেউ সওয়াল তোলেন, ভারতের বাবারা ছেলেমেয়ের সামনে এমনটা বলেন বটে। কিন্তু বাইরে ঘটা করেই তাঁদের গুণগান করে থাকেন। সাফল্যের স্বাদ পেয়েও পা যাতে মাটিতে থাকে, তার জন্যই এই 'আত্মনিয়ন্ত্রণ'। ব্যাখ্যা নেটিজেনদের একাংশের।