দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। তখন পুলিশকে তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। মিছিলে বেশ কয়েকজন কৃষককে তলোয়ার আর কৃপাণ নিয়ে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। ব্যারিকেড ভেঙে তাঁদেরই অনেকে পুলিশকে আক্রমণ করেছিলেন। এই ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মঙ্গলবার গণ্ডগোলের সময় আইটিও অঞ্চলে অ্যাডিশনাল ডিসিপি সেন্ট্রালের অপারেটরকে তলোয়ার নিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল। আক্রান্তের নাম সন্দীপ। তিনি সংবাদ সংস্থাকে জানান, "আচমকা অনেক মারমুখী লোকজন লালকেল্লার কাছে জড়ো হয়। তারা কৃষক কিনা জানি না। তারা আমাদের লাঠি, তলোয়ার এবং অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। তখন পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। উন্মত্ত জনতাকে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপেও দেখা গিয়েছে, এক বিক্ষোভকারী তলোয়ার নিয়ে পুলিশকে তাড়া করছেন।
মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই কয়েকজন কৃষক নেতা বেসুরে মন্তব্য করছিলেন। তাঁরা পুলিশের নির্ধারিত পথে মিছিল নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন। পরে মিছিল অনেক জায়গায় ব্যারিকেড ভাঙে। প্রথম যে নেতা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙেছিলেন, তাঁর নাম সতনাম সিং পান্নু। তিনি বুধবার বলেন, তাঁদের মিছিল থেকে বারবার পুলিশকে বলা হয়েছিল তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে আউটার রিং রোডে যেতে চান। কিন্তু পুলিশ তাঁদের যেতে বাধা দিয়েছিল। তাই তাঁরা ব্যারিকেড ভেঙেছিলেন।
মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের একাংশ ঐতিহাসিক লালকেল্লায় ঢুকে পড়েন। তাঁদের হাতে ছিল লাঠি ও পতাকা। 'নিশান সাহিব' নামে একটি ধর্মীয় পতাকা তাঁরা লালকেল্লায় উড়িয়ে দেন। লালকেল্লার অভ্যন্তরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে তাড়া করেন।
এদিন মোট ৩০০ পুলিশকর্মী আহত হন। মারা যান এক কৃষক। দিল্লি পুলিশ মঙ্গলবারের ঘটনায় ২২ টি মামলা করেছে। কয়েকজন কৃষক নেতার নামেও মামলা হয়েছে। হিংসায় যাদের উস্কানি ছিল, তাদের চিহ্নিত করছে পুলিশ। একটি ষড়যন্ত্রের মামলাও করা হয়েছে।
কৃষক নেতাদের একাংশ লালকেল্লার ঘটনার জন্য পাঞ্জাবের গায়ক, অভিনেতা তথা সমাজকর্মী দীপ সিধুকে দায়ী করেছেন। এক কৃষক নেতা বলেন, "দীপ সিধু সরকারের লোক। এই ষড়যন্ত্রটা আমাদের বোঝা দরকার।" পরে তিনি বলেন, "দীপ সিধু সর্দার নয় গদ্দার।"
সোমবারই দিল্লি পুলিশের প্রধান এস এন শ্রীবাস্তব বলেছিলেন, দেশবিরোধী শক্তি কৃষকদের উস্কানি দিচ্ছে। তারা কৃষক মিছিলের সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠতে চায়। অন্যদিকে গত শুক্রবার সিংঘু বর্ডারে কৃষকরা এক যুবককে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁদের অভিযোগ, মিছিলে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য পুলিশই প্রশিক্ষণ দিয়ে ছেলেটিকে পাঠিয়েছিল।