
সাইক্লোন রেমালের দাপট আজ রাতে বাড়বে কলকাতায়।
শেষ আপডেট: 26 May 2024 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাতায়-কলমে, এখনও সাগরদ্বীপ থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে তার অবস্থান। কিন্তু রবিবার সকাল থেকেই কলকাতায় কার্যত মাল্টিপ্লেক্সে ছবি শুরু হওয়ার আগের প্রিভিউ শো শুরু করে দিল ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল'। আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা, দমকা দমকা ঝোড়ো হাওয়া, সঙ্গে বৃষ্টি। যত বেলা গড়াবে, তত তার দাপট বাড়বে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সোমনাথ দত্ত জানিয়ে দিলেন, নিজের কেন্দ্র বা 'চোখ'-এর চারপাশে ৯৫ থেকে ১০৫ কিলোমিটার বেগে ঘুরতে ঘুরতে ক্রমশ উত্তরদিকে বাংলাদেশ উপকূল লক্ষ্য করে এগোচ্ছে 'রেমাল'।
নয়াদিল্লির মৌসম ভবন সকাল সাড়ে এগারোটার বুলেটিনে জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের ওপরে প্রায় ৭ কিলোমিটার গতিবেগে ক্রমশ এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এখনও শক্তি বাড়িয়ে চলেছে সে। গাস্ট বা সর্বোচ্চ বায়ুপ্রবাহের বেগ ১১০ কিলোমিটার। আজ মধ্যরাতের মধ্যেই বাংলাদেশের খেপুপাড়া ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মাঝামাঝি অংশ দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে চলেছে সে। তবে মৌসম ভবন জানিয়ে দিয়েছে, সম্ভাব্য 'ল্যান্ডফল' হতে চলেছে বাংলাদেশের মংলার দক্ষিণ-পশ্চিমে। অর্থাৎ, এ'যাত্রা রেমালের সরাসরি রোষ থেকে রক্ষে পেয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গ।
কিন্তু সরাসরি 'ল্যান্ডফল' না হলেও, রেমালের রুদ্রমূর্তির দাপটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ওড়িশার বিস্তীর্ণ অংশে আজ দুপুর থেকেই ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ও উত্তর চব্বিশ পরগণা, হাওড়া ও কলকাতার বিভিন্ন অংশে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির তোড় আজ রবিবার দুপুর থেকে কাল সোমবার বেলা অবধি থাকবে। বেলা যত গড়াবে, তত দাপট বাড়বে ঝড়ের। মধ্যরাতে কলকাতায় ঝড়ের দাপট সর্বোচ্চ হতে চলেছে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া ক্রমশ বাড়তে থাকবে। দুপুরে ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে হাওয়ার দাপট থাকবে, রাতে সেটা বাড়তে বাড়তে সর্বোচ্চ (গাস্ট) ১৩৫ কিলোমিটার বেগে পৌঁছবে মধ্যরাতে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণভাবে নিষেধ করা হয়েছে। স্থল-পরিবহনেও সতর্কতা বজায় রাখতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
আজ রবিবার দুপুর থেকেই কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট শুরু হবার কথা জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পূর্ব মেদিনীপুরে রবিবার রাতে হাওয়ার বেগ পৌঁছবে ৭০-৮০ কিলোমিটার বেগে, সর্বোচ্চ যা হবে ঘন্টায় ৯০ কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে অন্তত এক থেকে তিন মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই যা নিয়ে সতর্ক হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। উপকূল অঞ্চলে শুরু হয়েছে নজরদারি ও সতর্কবার্তা।
সাধারণত স্থলভাগে প্রবেশ করলেই দ্রুত শক্তি হারাতে শুরু করে ঘূর্ণিঝড়। রেমালের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। মৌসম ভবন জানিয়েছে, সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যেই স্থলভাগে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়টি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। বাতাসের বেগ কমে আসবে ৫০-৬০ কিলোমিটারে, সর্বোচ্চ হতে পারে ৭০ কিলোমিটার। মঙ্গলবার সকালে সেটি সাধারণ নিম্নচাপে নেমে আসবে। তবে বৃষ্টি চলবে মঙ্গলবার অবধি। রেমালের প্রভাব থাকবে উত্তরপূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে। মিজোরাম, অসম, মেঘালয় ও মণিপুরের বিক্ষিপ্ত অংশে ভারি বৃষ্টি হতে পারে।