দ্য ওয়াল ব্যুরো : কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে দলের সভানেত্রী করার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী ইস্তফা দেওয়ার সময় বলেছিলেন, তাঁদের পরিবারের আর কাউকে যেন সভাপতি না করা হয়। এখন কংগ্রেসে সম্পূর্ণ নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। কিন্তু প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সোমবার ‘প্রিয়ঙ্কা গান্ধী লাও’ দাবিতে সুর মিলিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ সভাপতি হলে কংগ্রেস ২৪ ঘণ্টাও টিকবে না। দু’টুকরো হয়ে যাবে।
প্রিয়ঙ্কা গান্ধী যেভাবে উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রে জমির লড়াইয়ে হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তারও প্রশংসা করেন নটবর। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসন অবশ্য তাঁকে সোনভদ্র পর্যন্ত যেতে দেয়নি। তার আগেই আটক করে মির্জাপুরে গেস্ট হাউসে রাখে। অভিযোগ, গেস্ট হাউসে রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে হতাহতদের পরিবার গেস্ট হাউসে এসে প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে দেখা করে। তাতে অবশ্য পুলিশ আপত্তি করেনি।
নটবর সিং সেই ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, উত্তরপ্রদেশের গ্রামে গিয়ে প্রিয়ঙ্কা কী ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি হাজার বাধার মুখেও পিছিয়ে আসেননি। নিজের কাজ করে তবে ফিরেছেন। রাহুল তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। গান্ধী পরিবার থেকে প্রিয়ঙ্কাকে সভানেত্রী করা হক।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়াকে কি সভানেত্রী নির্বাচন করা হবে? তিনি বলেন, সবকিছুই নির্ভর করছে তাঁর দাদা রাহুল গান্ধীর ওপরে। তিনি আগেই বলেছেন, গান্ধী পরিবারের কেউ যেন কংগ্রেস সভাপতি না হন। সেই সিদ্ধান্ত থেকে তাঁর সরে আসা উচিত।
এর আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর ছেলে অনিল শর্মা বলেন, প্রিয়ঙ্কাকেই দলের সভানেত্রী করা হোক। কারণ আর কেউ কংগ্রেস কর্মীদের কাছে ১০০ শতাংশ গ্রহণযোগ্য নন। তিনিও সংবাদ মাধ্যমের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গান্ধী পরিবারের বাইরে কেউ দলের সভাপতি হলে হয়তো অনেকে তাঁকে পছন্দ করবেন না। তাতে দল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
নটবর সিং বলেন, দুঃখের কথা হল, ১৩৪ বছরের পুরানো একটি দল সভাপতি করার মতো কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না। লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয় ফলাফলের দায় স্বীকার করে সভাপতির পদটি ত্যাগ করেন রাহুল। তার পরে ৫০ দিন কেটে যাওয়ার পরেও কাউকে দলের সর্বোচ্চ পদে বসাতে পারেনি দেশের ‘গ্রান্ড ওল্ড পার্টি’।