
শেষ আপডেট: 28 March 2023 06:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের (Gujarat) নভসারির একটি আদালত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ছবি ছিঁড়ে ফেলার অপরাধে এবার এক কংগ্রেস বিধায়ককে (Congress MLA) জেল-জরিমানার সাজা শুনিয়েছে। তিনি ভাঁসদা আসনের কংগ্রেস বিধায়ক অনন্ত প্যাটেল। ছবি ছিঁড়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করেছেন বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিচারক ভিএ ধাধাল বিধায়ক প্যাটেলকে প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননা সহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ন্যূনতম সাজা দিয়েছেন বিচারক। ওই বিধায়ককে ৯৯ টাকা জরিমানা করে বিচারক বলেছেন, অর্থ দণ্ডের পরিবর্তে তিনি সাত দিন জেল খাটতে পারেন।
ঘটনাটি ২০১৭ সালের। প্যাটেল ছাড়াও, এক প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক গুলাব সিং রাজপুত, যুব কংগ্রেস নেতা পীযূষ ধীমার এবং যুব কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি পার্থিব কাথওয়াদিয়ার বিরুদ্ধেও একই ঘটনায় মামলা হয়েছিল।
অভিযোগ, নভসারির কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক নিয়োগের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদের শামিল হয়ে অভিযুক্তরা উপাচার্যের ঘরে জোর করে ঢুকে পড়েছিলেন। তাঁরা উপাচার্যকে হুমকি দেয় এবং দেওয়ালে সাঁটা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন।
কংগ্রেস তখনই অভিযোগ করে, ছোট ঘটনা নিয়ে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। আসলে মোদীর বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না, এই বার্তাই দিতে চাইছে বিজেপি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানোর মতো প্রতীকি আন্দোলন করলেও জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার গুজরাতের সুরাতের আদালত মোদী পদবিধারীদের মানহানির অভিযোগে রাহুল গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করে দু বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সেই রায়ের কারণে রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ হয়ে গিয়েছে। রাহুলও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিশানা করেছিলেন।
কংগ্রেস বিধায়ককে অবশ্য আদালত অবশ্য কঠোর সাজা দেয়নি। বিচারক বলেন, যদিও এই অপরাধের সাজা তিন মাস জেল অথবা ৫০০ টাকা জরিমানা, তবে বিধায়কের উদ্দেশ্য ভাল ছিল।
তিনি ছাত্রদের পক্ষ নিয়ে ভাল উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর পদ্ধতি সঠিক ছিল না। তাই কঠোর সাজা দেওয়া হল না।
তবে জনসাধারণ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জরিমানা করেই রেহাই দেওয়া হল। জরিমানার টাকা জমা না করলে তখন সাত দিনের কারাবাস। দু বছরের কম সাজা হওয়ায় তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ হবে না। আদালতের সোমবারের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। কংগ্রেসের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় কীভাবে নরেন্দ্র মোদীকে অসম্মান করা হয়।