দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপারিন্টেন্ডেন্টের অফিস, নাকি কোনও চিড়িয়াখানা! হঠাৎ দেখলে ভুল হয়ে যেতে পারে!
পরপর করোনা রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় এবং একের পর এক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় কার্যত হটস্পটে পরিণত হয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। সেই কারণেই হাসপাতালের চত্বর থেকে সুপারের অফিস এবং প্রশাসনিক ভবন সম্পূর্ণ ভাবে আলাদা করে ঘিরে ফেলা হয়েছে। জানা গেছে, প্রশাসনিক কাজকর্ম সচল রাখতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সুপারের অফিসকে বন্দি করা হয়েছে জাল লাগানো কোলাপসিবল গেট দিয়ে। প্রশাসনিক ভবন ডেভিলার ব্লকের চার পাশেও গার্ড রেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।
এক কথায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সুপারের গোটা অফিসই খাঁচাবন্দি করে ফেলা হয়েছে করোনা সংক্রমণ আটকাতে।
ঐতিহ্যবাহী কলকাতা মেডিক্যাল কলেজকে পুরোপুরি কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এখন। স্বাস্থ্যভবনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে হাজারটি বেড নিয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
তার আগে, গত মাসের শেষে রেকর্ড সংখ্যায় করোনা সংক্রমণ ঘটেছিল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে! কম করে ২০ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন এই হাসপাতালে। তবে এ নিয়ে কোনও তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্য দফতর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সরকারি ভাবে কিছু জানাননি।
একের পর এক স্বাস্থ্যকর্মীর এই আক্রান্ত হওয়া নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিকাঠামোকে দায়ী করেছিলেন হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, যেভাবে হাসপাতাল কোভিড ম্যানেজমেন্ট করছে, তাতে পরিস্থিতি ক্রমেই ঝুঁকির হয়ে উঠছে। হাসপাতালের ভিতরে একের পর এক চিকিৎসক ও রোগী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্কও ছড়িয়েছিল হাসপাতাল চত্বরে। হাসপাতালের কর্মী ও চিকিৎসকরাও ভয়ে ছিলেন।
সে ভয় যে কাটেনি পুরোপুরি, তা সুপারের অফিসের খাঁচাবন্দি চেহারা দেখলেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিনা প্রয়োজনে কোনও স্বাস্থ্যকর্মীকেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ কথাবার্তার প্রয়োজন খাঁচার বাইরে থেকেই মেটানো হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশ এ বিষয়ে খানিক ক্ষুব্ধও। তাঁদের দাবি, চিকিৎসকদের সুরক্ষা নয়, নিজেদের সুরক্ষাই বেশি জরুরি কর্তৃপক্ষের কাছে। তাই পর্যাপ্ত সুরক্ষা বর্ম ছাড়াই তাঁদের চিকিৎসা করতে হচ্ছে করোনা রোগীদের, আর নিজেদের খাঁচাবন্দি করে রেখেছেন আধিকারিকরা।