স্রেফ জল বেচে মুকেশ আম্বানিকে টেক্কা দিয়ে এশিয়ায় ১ নম্বর ধনী এই ব্যবসায়ী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিকা শ্রমিকের কাজ করেছেন। সেলসম্যান হয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নরম পানীয় বেচেছেন। আবার সাংবাদিকতাও করেছেন। হালে স্রেফ মিনারেল ওয়াটার বিক্রি করেই এনার সম্পত্তি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। করোনা মহামারী, লকডাউনে যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি ধুঁকছে,
শেষ আপডেট: 30 December 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিকা শ্রমিকের কাজ করেছেন। সেলসম্যান হয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নরম পানীয় বেচেছেন। আবার সাংবাদিকতাও করেছেন। হালে স্রেফ মিনারেল ওয়াটার বিক্রি করেই এনার সম্পত্তি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। করোনা মহামারী, লকডাউনে যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি ধুঁকছে, সেখানে এনার সম্পত্তি উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। খানদানি সম্পত্তির মালিক আলিবাবার কর্ণধার জ্যাক মাকে টেক্কা তো দিয়েইছিলেন, এখন আবার এশিয়ার সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানিকেও টপকে গিয়েছেন। ভাবা যায়!
হ্যাঁ, এশিয়ার এক নম্বর ধনী এখন এই জল বিক্রেতা। আমেরিকার আর্থিক সংস্থা ব্লুমবার্গের বিচারে ইনিই এখন এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তি। নাম ঝং শানশান। কোটিপতিদের তালিকায় হয়তো এখনও তেমনভাবে ঝংয়ের পরিচিতি বাড়েনি। তবে মুকেশ আম্বানিকে টেক্কা দিয়ে এখন তিনিই খবরের শিরোনামে।
কে এই ঝং শানশান?
এখন চিনের কোটিপতি ব্যবসায়ী। ‘লোন উলফ’ বলেই ডাকা হয় তাঁকে। তবে শুরুটা এমন ছিল না। স্কুলের শিক্ষা ততটা নেই। ১২ বছর বয়সেই স্কুল ছেড়ে দেন। ঝং তখন ক্লাস সিক্সের ছাত্র। এরপরে পয়সা রোজগারের জন্য নানা কাজ করেন। কখনও ঠিকা কর্মীর কাজ করেছেন। সেলসম্যানের চাকরিও করেছেন। সাংবাদিকতা করেছেন। তারপরেই নিজের কোম্পানি খুলেছেন ১৯৯৬ সালে। ঝংয়ের তৈরি এই সংস্থার নাম ‘নংফু স্প্রিং’ । চিনের ঝেঝিয়াং প্রদেশে ছবির মতো সুন্দর এই কোম্পানি নংফু স্প্রিং। হাজারের বেশি ছোট ছোট দ্বীপ, তার চারদিকে লেক। ২০০১ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে এই কোম্পানি তার ব্যবসা শুরু করে দেয়। নামও কিনে নেয় কয়েকবছরের মধ্যেই। মিনারেল ওয়াটারের পাশাপাশি নরম পানীয় তৈরি করে এই সংস্থা। চিনে তো এখন একচেটিয়া ব্যবসা নংফু স্প্রিংয়ের।
[caption id="attachment_291708" align="aligncenter" width="1273"]

নংফু স্প্রিং[/caption]
তবে শুধু জল বেচেই থেমে থাকেননি ঝং শানশান। তাঁর এই ফুলে ফেঁপে ওঠার পেছনে আরও কারণ রয়েছে। বেজিংয়ের ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ওয়ান্টাই বায়োলজিক্যাল ফার্মাসির মালিকানা নিয়েছেন ঝং। এরপরেই এক ধাক্কায় নংফু স্প্রিংয়ের শেয়ার বেড়ে গেছে ১৫৫ শতাংশ। ৬৬ বছরের ব্যবসায়ীর সম্পত্তি বেড়েছে ৫ হাজার ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এশিয়াতে তিনিই এখন সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি, বিশ্বের কোটিপতিদের তালিকায় ১১ নম্বরে।
আসলে ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পরেই এশিয়ার ধনীতম ব্যবসায়ীর তকমা পেয়েছিলেন মুকেশ আম্বানি। পারিবারিক সম্পত্তির নিরিখে এতদিন তাঁর ধারেকাছে কেউ ছিল না। রিল্যায়ান্সের ৯.৯৯ শতাংশ শেয়ার ফেসবুক কিনে নেওয়ার পরেই, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে রিল্যায়ান্সের শেয়ারের দাম। এক ধাক্কায় আলিবাবার কর্ণধার জ্যাক মাকে টপকে শীর্ষে চলে আসেন মুকেশ আম্বানি। করোনা মহামারী কালে জ্যাক মা-র সংস্থা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই আম্বানিরাই হয়ে যান সেরার সেরা। এতদিনে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন ঝং শানশান। বোতলভর্তি জল তো বটেই, বুদ্ধি করে ভ্যাকসিন নির্মাতা কোম্পানি কিনে নিয়ে সব্বাইকে টেক্কা দিয়ে দিয়েছেন ঝং শানশান।