
কেন্দ্রীয় বাহিনী।
শেষ আপডেট: 14 June 2024 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরমের ছুটির পর সোমবার থেকেই স্কুল খুলে গেছে। কিন্তু আজ শুক্রবার হয়ে যাওয়ার পরেও রাজ্যের অনেক স্কুল এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আস্তানা। ভোট পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তারা স্কুলগুলিতেই থাকছে। থাকার কথা ১৯ তারিখ পর্যন্ত। বাহিনীর কারণে পঠনপাঠনে সমস্যা হচ্ছে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। বুধবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের ক্ষতি করে কোনও কিছু করা যাবে না। কিন্তু এখনও বহু জায়গাতেই বাহিনী থেকে গেছে বলে জানা গেছে।
আজ এই মামলার শুনানিতে আদালত হিসেব চাইল, রাজ্যে কোন স্কুলে কত বাহিনী রয়েছে। আগামী ১৮ জুন কেন্দ্র ও রাজ্য দু'পক্ষই এর রিপোর্ট জমা দেবে নির্দেশ বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চে।
ভোট পরবর্তী অশান্তি রুখতে নির্বাচনের পরও বেশ কয়েকদিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে তার জন্য স্কুলের পড়াশোনায় সমস্যা হোক, এমনটা মোটেই চাইছে না কোর্ট। তাই বুধবারই স্পষ্ট বলা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে থাকা সংক্রান্ত মামলায় আজ, শুক্রবার রাজ্যকে হলফনামা দিতে হবে।
তবে আজ শুনানির পরে স্কুল ও কলেজ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরানো নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি হাইকোর্ট। কতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত, সেই খতিয়ানই চেয়েছে কেবল। রাজ্য, কেন্দ্র বা আবেদনকারী কেউই সেই সংখ্যা জানাতে পারেনি। ১৮ জুন জানানোর পরে, তবেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ।
এদিন আদালতে আবেদনকারীর তরফে সওয়াল করা হয়, লোকসভা নির্বাচনের পরেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়ে গেছে। এদিকে ১০ জুন গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিষ্ঠান গুলির ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, যা সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এ-ও বলা হয়, পড়ুয়ারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে।
এর উত্তরে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন আবেদনকারীকে বলেন, 'এটা কী বলেছেন? বাহিনী নিয়ে এই ধরনের কথা বলা যায় না। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে কী বার্তা যাবে? নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে এই ধরনের কথা বলা ঠিক নয়।'
অন্যদিকে কেন্দ্র বিচারপতিকে জানায়, ৪০০ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে ২৫১ কোম্পানি বিভিন্ন স্কুল কলেজ আছে। রাজ্যে অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা হলে বাহিনী সরে যাবে।
বিচারপতি জানান, আগামী ১৮ জুন পরবর্তী শুনানি হবে এই মামলার। সেদিনই জানাতে হবে, রাজ্যে কোন স্কুলে কত বাহিনী রয়েছে।
বাংলায় বারবার দেখা গেছে, ভোটের পর ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই ইস্যুতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা কাম্য নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার সিদ্ধান্ত। তবে প্রশাসনকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। কলকাতা হাইকোর্ট এও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে থাকবে ১৯ জুন পর্যন্ত। তবে আইন শৃঙ্খলার দিকে নজর দেবে পুলিশ। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহৃত হবে।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সূচি অনুযায়ী, ৯ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত গরমের ছুটি থাকে। এবারে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ২২ এপ্রিল থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ভোট মিটে যাওয়ার পর বাহিনী থাকার কারণে সেই ছুটি আরও সাতদিন বৃদ্ধি করা হয়। ফলে ১০ তারিখ থেকেই পুরোদমে পঠনপাঠন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক জায়গায় তা করা সম্ভব হয়নি স্কুলে বাহিনী থাকার জন্য। ইতিমধ্যে নবান্ন জানিয়ে দিয়েছে, স্কুলে স্কুলে আর কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা যাবে না। এবার বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।