মামলাকারী ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটর অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে বহু শিক্ষক নিজেদের কাছে পড়তে ছাত্রছাত্রীদের উপর চাপ তৈরি করছেন। এর ফলে অভিভাবকদের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ছে, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পেশাদার গৃহশিক্ষকেরা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 April 2026 23:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি ও আধা-সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন (Government teachers private tuition) এবং কোচিং সেন্টার চালানো নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। ২০১৮ সালের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্য সরকার ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
সোমবার এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বিচারপতি পার্থসারথি সেন-সহ ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, নিষেধাজ্ঞা জারির এত বছর পরও কেন বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শহর ও শহরতলির বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা কোচিং সেন্টার খুলে বা ব্যক্তিগত টিউশনের মাধ্যমে নিয়ম ভাঙছেন।
মামলাকারী ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটর অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে বহু শিক্ষক নিজেদের কাছে পড়তে ছাত্রছাত্রীদের উপর চাপ তৈরি করছেন। এর ফলে অভিভাবকদের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ছে, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পেশাদার গৃহশিক্ষকেরা।
সংগঠনের আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী আদালতে জানান, বিভিন্ন জেলার অভিযুক্ত শিক্ষকদের তালিকাও রাজ্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবু এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ করা হয়নি। বেআইনি কোচিং ও টিউশন অবিলম্বে বন্ধের দাবিও ওঠে শুনানিতে।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সরাসরি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, নির্দেশিকা মেনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার কোনও নথি আদালতে পেশ করা যাবে কি না। জবাবে জানানো হয়, এই মুহূর্তে কোনও লিখিত রিপোর্ট নেই।
এরপরই আদালতের নির্দেশ, ২০১৮ সালের গেজেট বিজ্ঞপ্তি এবং পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশ মেনে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হলফনামা আকারে রিপোর্ট আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে রাজ্য সরকার ও পর্ষদকে।
এই নির্দেশের জেরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে চাপা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে আইনজীবী মহলের একাংশের মত।