
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
শেষ আপডেট: 12 May 2024 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেআইনি নির্মাণ ভাঙা নিয়ে এজলাসের মধ্যেই বচসায় জড়ালেন পুরসভা বনাম পুর্ত দফতরের আইনজীবীরা। ঘটনার জেরে হই হট্টগোল শুরু হয়ে যায় এজলাসে। পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো আঙুল উঁচিয়ে দু'পক্ষের আইনজীবীদের ধমক দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
একই সঙ্গে আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুরের বাসিন্দা অমিতাভ পারিয়ারীর অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বেশকিছু কর্মী তাঁর প্রায় ৯ কাঠা জমির অধিকাংশই দখল করে সেখানে বেআইনি নির্মাণ করে ব্যবসা করছে। এবিষয় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সঞ্চিতা জানাকে অভিযোগ জানিয়েও কোন সুরাহা পাননি।
এমনকী এ ব্যাপারে পুরসভাতে অভিযোগ জানালেও পুলিশ বা পুরসভা কেউই কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেয়ে এরপরই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন অমিতাভ।
মামলাকারীর আইনজীবী আশিস চৌধুরী আদালতে জানান, কোনওরূপ নকশা ও অনুমতি ছাড়াই দিনের পর দিন গায়ের জোরে জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ চালালেও প্রশাসন সম্পূর্ণ উদাসীন। কাঁথি পুরসভা রিপোর্টে বেআইনি নির্মাণের কথা উল্লেখ করলেও বাস্তবে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। পুরসভা এবং পূর্ত দফতর পরস্পরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দায় সেরেছে।
ওই মামলার শুনানিতে শনিবার আদালতে পুরসভার আইনজীবীর ব্যাখ্যা, "পুরসভার জায়গা হলেও রাস্তা দখল করে বেআইনি নির্মাণ হলে সেটা ভাঙার দায়িত্ব পূর্ত দফতরের।" পাল্টা হিসেবে পূর্ত দফতরের আইনজীবী বলেন, "জায়গা যেহেতু পুরসভার তাই কোথাও বেআইনি নির্মাণ হলে ভাঙার দায়িত্বও পুরসভার।"
এরপরই দু'পক্ষের আইনজীবী পরস্পরের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। আদালতের কক্ষে আইনজীবীদের এমন বচসা দেখে ধমক দেন বিচারপতি।
একইসঙ্গে বিস্ময়প্রকাশ করে তিবি বলেন, নির্মাণকার্য যে বেআইনি তা পরিষ্কার, তারপরও এভাবে দায় ঠেলাঠেলি কেন?
এরপরই পুরসভা এবং পূর্ত দফতরকে যৌথভাবে ৬ মাসের মধ্য়ে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।