নম্বর ছাড়া ফল প্রকাশের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থী আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ না হলে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। কে কত নম্বর পেয়েছেন, কী ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছেন - সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে সন্দেহ থেকেই যায় বলে দাবি তাঁদের।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 February 2026 11:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কনস্টেবল (WB police Recruitment) পদে নিয়োগকে ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতা। লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর-সহ পূর্ণাঙ্গ মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সেই নির্দেশকেই এবার চ্যালেঞ্জ করেছে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড। বিষয়টি নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আজ শুনানি হওয়ার কথা।
২০২৪ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় ২০২৫ সালে। ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫। কিন্তু ফল ঘোষণার পরই বিতর্কের সূত্রপাত। দেখা যায়, প্রকাশিত তালিকায় প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। কেবলমাত্র নির্বাচিতদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
নম্বর ছাড়া ফল প্রকাশের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থী আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ না হলে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। কে কত নম্বর পেয়েছেন, কী ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছেন - সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে সন্দেহ থেকেই যায় বলে দাবি তাঁদের।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরুর আগেই লিখিত পরীক্ষার নম্বর-সহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও প্রার্থী নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর নাম বাদ পড়বে - এতে আপত্তির কারণ নেই।
অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে এই নির্দেশের বিরোধিতা করা হয়। সরকারের যুক্তি, লিখিত পরীক্ষার নম্বর প্রকাশ আইনত বাধ্যতামূলক নয় এবং এই পর্যায়ে তা প্রকাশ করলে চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে একক বেঞ্চ সেই যুক্তি মানেনি।
এরপরই হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড। ফলে আপাতত নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, নম্বর-সহ তালিকা প্রকাশ হলে প্রার্থীদের মধ্যে আস্থা বাড়বে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন ডিভিশন বেঞ্চের উপরেই নির্ভর করছে।