
শেষ আপডেট: 5 October 2023 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর আগে ফের কলকাতার রাজপথে মিছিল করতে চাইছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কিন্তু পুলিশের তরফে অনুমতি মিলছিল না। তাই নিজেদের দাবি আদায়ের লড়াইয়ের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই মামলায় বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত প্রশ্ন তুললেন, কাজের দিনে ক্লাস না করে কীভাবে মিছিল করার কথা ভাবছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা!
আগামী ১৩ অক্টোবর বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন তাঁদের বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আচার্য সদন থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত মিছিল করতে চেয়েছিল। সেই মিছিলে সামিল হওয়ার কথা ছিল রাজ্যের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষকের। কিন্তু সেই মিছিল করার অনুমতি দিচ্ছিল না পুলিশ। তাই পুলিশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে উঠেছিল সেই মামলা।
বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত কাজের দিনে মিছিল করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তিনি জানতে চান, শিক্ষকরা ক্লাস না নিয়ে কাজের দিনে কী করে মিছিলে অংশ নেবেন? প্রয়োজনে আগে ক্লাস করিয়ে তারপরে এমন সাংগঠনিক বিষয়ে যোগ দেওয়া উচিত। অথবা ছুটির দিনে এমন ব্যাপারে যোগ দেওয়া যুক্তিযুক্ত। তিন হাজার শিক্ষক এইভাবে দিনের ব্যাস্ত সময় শহরে মিছিল করলে তাতে অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী জানান, পুজোর আগে এমন মিছিলে অনুমতি দিলে সাধারণ মানুষের সমস্যা হবে। তাই পুজোর পরে অনুমতি দেওয়ার আর্জি জানান তিনি। কিন্তু বিচারপতি সেনগুপ্ত জানিয়ে দেন, বিষয়টা পুজোর আগে না পরে, তা নিয়ে নয়। মহালয়ার আগেও সেই মিছিল করা যেতে পারে। প্রশ্ন হল, কেন এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের জমায়েতের জন্য কাজের দিনকেই বেছে নেওয়া হল।
তিনি জানিয়ে দেন, রাজ্য ও আবেদনকারীরা ভিন্ন কোনও রাস্তা বা বিকল্প কোনও ফাঁকা জায়গায় জমায়েতের প্রস্তাব নিয়ে আসুন। তখন বিবেচনা করে দেখা হবে। আগামীকাল এই মামলার শুনানি রয়েছে।
এর আগে বকেয়া মহার্ঘভাতা আদায়ের দাবিতে রাজ্যের স্কুলশিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের একাংশ গত মার্চ মাসে ধর্মঘট পালন করেছিলেন। তখন রাজ্য সরকারের তরফেও একই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ক্লাস বন্ধ রেখে ধর্মঘটে সামিল হওয়া নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মঘটে যোগ দেওয়া শিক্ষকদের হাজিরা খাতা এবং অন্যান্য তথ্য চেয়ে জেলার শিক্ষা আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা দফতর। ধর্মঘটে যোগ দেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল অনেকে। এমনকী, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করারও অভিযোগ তুলেছিল শিক্ষক মহল।