দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবারই জেএনইউয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই। বুধবার আচমকাই তাঁর হয়ে মুখ খুলল বিজেপির দীর্ঘদিনের মিত্র শিবসেনা। তাদের বক্তব্য, কানহাইয়া কুমারের সমালোচনা করার অধিকার নেই বিজেপির। কারণ তারা জম্মু-কাশ্মীরে পিডিপি-র সঙ্গে জোট করেছিল।
কাশ্মীরে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেত্রী মেহবুবা মুফতি মনে করেন সংসদ হানায় যুক্ত আফজল গুরু শহিদ হয়েছেন। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতি কানহাইয়া কুমারও আফজল গুরুর ফাঁসির পরে জনসভা করেন। তিনিও আফজল গুরুকে ফাঁসিতে ঝোলানোর বিরোধী ছিলেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই সভা হয়। সেখানেই দেশদ্রোহী স্লোগান উঠেছিল বলে অভিযোগ। তার কিছুদিন বাদে কানহাইয়া কুমার গ্রেফতার হন। এই নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি গ্রেফতারির বিরুদ্ধে মুখ খলেন।
শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-য় লেখা হয়েছে, মেহবুবা মুফতির সঙ্গে জোট বেঁধে পাপ করেছিল বিজেপি। এখন তারা যেন রাজনৈতিক ফয়দা তোলার জন্য কানহাইয়া কুমারের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ নিয়ে হইচই না করে।
বেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, বিহারের বেগুসরাই আসন থেকে দাঁড়াতে পারেন কানহাইয়া। যদিও বেগুসরাই আসনটি এবার কানহাইয়া কুমারের দল সিপিআইকে ছাড়া হবে কিনা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই আসনে সিপিআই প্রার্থী একাধিকবার জয়লাভ করেছেন। কিন্তু ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে আরজেডির তনভির আলমকে পরাজিত করেন বিজেপির ভোলাপ্রসাদ সিং।
আরজেডির এক নেতা বলেন, গতবার আমাদের প্রার্থী হেরে গেলেও ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। এখন আমাদের দল উচ্চবর্ণের গরিবদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই অবস্থায় কানহাইয়া কুমারকে এখানে ভোটে দাঁড় করানো ঠিক নাও হতে পারে। কারণ কানহাইয়া নিজে জাতে ভূমিহার। অর্থাৎ তিনি উচ্চবর্ণ।
জেএনইউতে দেশদ্রোহিতা নিয়ে বিতর্কের পরে কানহাইয়া কুমার সারা দেশে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। আরজেডি নেতাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কানহাইয়া কুমারের ভাবমূর্তির জন্যই কি তাঁকে বেগুসরাই আসনটি ছাড়তে চাইবে না আপনাদের দল? তিনি বলেন, একথাও সত্যি। আমরা চাইব না রাজ্যে কোনও তরুণ নেতা জনপ্রিয় হয়ে উঠুন। আমরা তরুণ নেতা হিসাবে তেজস্বী যাদবকে তুলে ধরব। কিন্তু কানহাইয়া কুমারের জনপ্রিয়তা বেড়ে উঠলে তিনি তেজস্বীর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবেন।