দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের প্রতাপগড়ের জুহি শুক্লাপুর গ্রামের লোকজনের হয়তো করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ডাক্তারের চিকিত্সা, ভ্যাকসিনের চেয়ে বেশি ভরসা দৈবশক্তির ওপর। মারণ ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় বিপর্যস্ত দেশ। তার হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে চাঁদা তুলে নিম গাছের নীচে তাঁরা তৈরি করেছেন ‘করোনা মাতা’র মন্দির। যদিও বিতর্কের মধ্যেই ৭ জুন তৈরি হওয়া মন্দির ভেঙে দেওয়া হয় শুক্রবার রাতে। কুসংস্কারে ভরসা, মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগে বিতর্কের মধ্যেই এ ঘটনা। পুলিশ মন্দির ভেঙে দিয়েছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। যদিও তা খারিজ করে পুলিশের দাবি, মন্দির তৈরি হয়েছিল বিতর্কিত জমিতে, বিতর্কে জড়িত দুপক্ষের একটি সেটি ভেঙে দিয়েছে।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় মানুষের থেকে ডোনেশন নিয়ে সম্প্রতি করোনা মাতা মন্দির নির্মাণ করেন লোকেশ কুমার শ্রীবাস্তব। তিনিই করোনা মাতার মূর্তি বসান, গ্রামেরই রাধেশ্যাম ভার্মাকে পূজারী নিয়োগ করা হয়। লোকে সেখানে পুজো-আচ্চা শুরু করে। মন্দিরে অবশ্য সবাইকে মাস্ক পরে থাকতে, সামাজিক দূরত্ববিধি মানতে হয়। এমনকী করোনা মাতার বিগ্রহকেও সবুজ মাস্ক পরানো হয়। যদিও প্রসাদ নেওয়ার সময় যাবতীয় সুরক্ষাবিধি শিকেয় ওঠে বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরা জানান, আগে প্লেগ, গুটি বসন্তের সময় গ্রামে ছেচক মাতা (গুটি বসন্ত মা) মন্দির তৈরি হয়েছিল।
লোকেশ থাকেন নয়ডায়। যে জমিতে মন্দির হয়েছে, লোকেশ একা নন, তার আরও দুজন মালিক। নাগেশ কুমার শ্রীবাস্তব, জয় প্রকাশ শ্রীবাস্তব। মন্দির তৈরির পর লোকেশ নয়ডায় চলে যান। নাগেশ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন, জমিটা হাতিয়ে নেওয়াই লোকেশের মন্দির তৈরির উদ্দেশ্য। অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ। করোনা মাতা মন্দিরের ভিডিও, ছবি ভাইরাল হতে সোস্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়। কেউ লেখেন, রোগ-অসুখ থেকে নিস্তার পেতে দেবদেবীর কাছে প্রার্থনা, পুজোর দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে ভারতে। কেউ মজা করে লেখেন, প্রসাদ বিলির পরিবর্তে ভ্যাকসিন দেওয়ানোর ব্যবস্থা করলে কাজ হত।
করোনা মাতার মন্দির এই প্রথম নয়। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর, কর্নাটকের মধুভানাহাল্লি গ্রামে আগেই করোনার রোষ থেকে বাঁচতে মূর্তি বসিয়ে পুজো হয়েছে।