চুলের মুঠি ধরে পেটে লাথি মেরেছে পুলিশ, খেতে দেয়নি', অভিযোগ সাদাফ-দারাপুরীদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলে নিয়ে গিয়ে খেতে দেয়নি পুলিশ। বেধড়ক মেরেছে। কটূ কথা বলতে ছাড়েননি মহিলা পুলিশকর্মীরাও। জামিনের পর পুলিশি নিগ্রহের গুরুতর অভিযোগ আনলেন সমাজকর্মী তথা কংগ্রেস নেত্রী সাদাফ জাফর ও প্রাক্তন আইপিএশ অফিসার এসআর দারাপুরী। সংশো
শেষ আপডেট: 8 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলে নিয়ে গিয়ে খেতে দেয়নি পুলিশ। বেধড়ক মেরেছে। কটূ কথা বলতে ছাড়েননি মহিলা পুলিশকর্মীরাও। জামিনের পর পুলিশি নিগ্রহের গুরুতর অভিযোগ আনলেন সমাজকর্মী তথা কংগ্রেস নেত্রী সাদাফ জাফর ও প্রাক্তন আইপিএশ অফিসার এসআর দারাপুরী। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এনআরসি) নিয়ে বিক্ষোভের সময় লখনউতে গ্রেফতার হয়েছিলেন সাদাফ, দারাপুরী-সহ দশ জন। গত শনিবার তাঁদের জামিনে মুক্তি দেয় লখনউয়ের একটি নিম্ন আদালত।
১৯ ডিসেম্বর লখনউয়ে নয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল, তাতে যোগ দিয়েছিলেন সাদাফ। প্রশাসনের দাবি, সেই বিক্ষোভে ভিড়ের মধ্যে থেকে অসংখ্য বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়ছিল। সেই দাঙ্গার ফেসবুক লাইভ করছিলেন সাদাফ। তাতে পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশে করে সাদাফকে বলতে শোনা যায়, বিক্ষোভকারীদের হিংসা থামানোর কোনও চেষ্টা কেন করছে না পুলিশ। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন তিনি। এরপরেই গ্রেফতার করা হয় কংগ্রেস নেত্রীকে। গ্রেফতারির পরে তাঁকে মারধরের অভিযোগও ওঠে যোগী পুলিশের বিরুদ্ধে। সাদাফের অভিযোগ, “হজরতগঞ্জে আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন অধ্যাপক, সমাজকর্মী, মানবাধিকার কর্মীর মতো সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পুলিশ সেখানে এসে নির্বিচারে লাঠি চালাতে থাকে। আমার পায়ে লাঠি দিয়ে মারে।”
এখানেই থেমে থাকেননি কংগ্রেস নেত্রী। তাঁর আরও অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে থেকে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পাথর ছুড়ছিল, অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছিল। সবটাই নীরব দর্শক হয়ে দেখছিল পুলিশ। প্রতিবাদ করলে উল্টে তাঁদেরকেই গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। “থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ আমার চুলের মুঠি ধরে পেটে লাথি মারে। মহিলা থানায় নিয়ে যাওয়ার পর চড়াও হন মহিলা পুলিশকর্মীরা। নির্মমভাবে মারধর করা হয় আমাদের,” অভিযোগ সাদাফের।

থানায় কটু কথাও শুনতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাদাফ জাফর। তাঁর কথায়, “পুলিশ আমাদের বলছিল, দেশের খাও আর পাকিস্তানের গুণগান করো!” একটা গোটা রাত জেলে খেতে দেওয়া হয়নি, রাতে রক্তচাপ বাড়লে হাসপাতালে নিয়ে গেলে শুধুমাত্র একটা ইঞ্জেকশন দিয়ে ছেড়ে দেন ডাক্তাররা। সাদাফের অভিযোগ, যোগী পুলিশের ভয়ে ডাক্তার ওষুধ দিতেও সাহস পাননি।
সাদাফ জাফরের মতো পুলিশি নিগ্রহের অভিযোগ এনেছেন প্রাক্তন আইপিএস দারাপুরীও। তাঁর অভিযোগ, “বাড়ি থেকে আমাকে গ্রেফতার করে হজরতগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় মারধর করে পুলিশ। খেতে দেয়নি। শীতে একটা কম্বলও দেওয়া হয়নি। পরদিন অসুস্থ শরীরে আমাকে আদালতে তোলা হয়। ”