Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘সবচেয়ে অসুখী বোধ করছিলাম, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রায় পুকুর চুরির মতো ব্যাপার ঘটছিল বলে’প্রকাশিত সিবিএসই দশম শ্রেণির ফলাফল! পাশের হারে ছেলেদের টেক্কা মেয়েদের, শীর্ষে কোন শহর? নববর্ষে পারিবারিক সেলিব্রেশন, তার মাঝেই ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির প্রার্থনা অপরাজিতারনববর্ষে রাজ্যপালের মুখে ‘পরিবর্তনের’ ডাক! ‘লাটসাহেব’কে নিয়ে ছেড়ে কথা বললেন না মমতাওস্যালাড খেলেই সুস্বাস্থ্য নয়! ভুলেও কাঁচা খাবেন না এই ৩ সবজি, কারণ জানুনইরানকে কি অস্ত্র দিচ্ছে চিন? শি জিনপিংয়ের চিঠির পর জল্পনা ওড়ালেন ট্রাম্প'দেশু ৭'-এ অনির্বাণ, এবার ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’য় কোন নায়কের এন্ট্রিতে চমক?এখনই সুরাহা নেই, রান্নার গ্যাসের আকাল চলতে পারে আরও ৪ বছর! দুশ্চিন্তা বাড়বে ভারতের আমজনতার: সূত্রলোকসভার আসন বেড়ে হচ্ছে ৮৫০, কতটা লাভ বাংলার? সবচেয়ে বেশি ও কম সিট বাড়ছে কোন রাজ্যে?নববর্ষে কলকাতা সফরে আইওসি-র শীর্ষ কর্তা, এলপিজির বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে হাজির গ্যাসের দোকানেও

দু’হাজারের নোট, রেলের প্রযুক্তি, ধাক্কা খাচ্ছে ঢক্কানিনাদ, মোদীর করে গণমণ্ডল থাকবে তো?

শোভন চক্রবর্তী ‘করমণ্ডল উল্টে গেছে। আরে করমণ্ডল উল্টে গেছে। ফাস্ট ফাস্ট। চার লাইন লিখতে হবে আগে। দ্রুত।’শুক্রবার রাত পৌনে আটটা নাগাদ খবর আসামাত্র নিউজরুমে শোরগোল। অন্য ব্যস্ততা। জমানো সব ছেড়ে ইনপুট পাওয়ার চেষ্টা। সংবাদসংস্থাগুলির টুইট হ

দু’হাজারের নোট, রেলের প্রযুক্তি, ধাক্কা খাচ্ছে ঢক্কানিনাদ, মোদীর করে গণমণ্ডল থাকবে তো?

শেষ আপডেট: 4 June 2023 07:09

শোভন চক্রবর্তী

‘করমণ্ডল উল্টে গেছে। আরে করমণ্ডল উল্টে গেছে। ফাস্ট ফাস্ট। চার লাইন লিখতে হবে আগে। দ্রুত।’
শুক্রবার রাত পৌনে আটটা নাগাদ খবর আসামাত্র নিউজরুমে শোরগোল। অন্য ব্যস্ততা। জমানো সব ছেড়ে ইনপুট পাওয়ার চেষ্টা। সংবাদসংস্থাগুলির টুইট হাতড়ানো শুরু। ওড়িশার স্থানীয় খবরে চোখ রাখার চেষ্টা। বড় খবর (2000 note rail technology and Narendra modi) হলে এমনই হয় নিউজরুমের ছবি। কিছুক্ষণ পর থেকে ছবি আসা শুরু হল। রাতের অন্ধকারের সেসব ছবি দেখে একটা আঁচ করা যাচ্ছিল, কী হয়েছে বালেশ্বরে।

দ্য ওয়াল-এর সম্পাদক রাজধানী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়েছিলেন। সেসব গল্প অনেক শুনেছি। এক জামা-কাপড়ে তিন দিন কাটানো, লাশের স্তূপের মাঝে গিয়ে খবর সংগ্রহ করা—যে কোনও সাংবাদিককেই শিহরিত করবে। ছবি দেখে সম্পাদক বলছিলেন, মৃত্যু সংখ্যা অনেক হবে। ততক্ষণে ২০, ৩০, ৫০, ১০০—বেড়ে চলেছে ডেথ টোল। একটু রাতে যখন মোটামুটি বোঝা গেল, বিরাট বিপর্যয় ঘটে গিয়েছে তখন অনেকেই রেলের পরিকাঠামো, যাত্রী নিরাপত্তা, সিগনালিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করে দিয়েছেন। পাল্টা বিজেপির লোকজন সব ছেড়ে ভাঙা রেকর্ডের মতো বাজাতে শুরু করলেন—‘এটা রাজনীতির সময় নয়। দয়া করে কেউ রাজনীতি করবেন না।’

ট্রেন দুর্ঘটনা যে সব সময় পরিকাঠামোর জন্য ঘটে তা নয়। ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনাই হয় চালক বা গার্ডের ত্রুটির কারণে। কিন্তু দু’টি এক্সপ্রেস আর একটি মালগাড়ির সংঘর্ষ যে তেমন ছোটখাট ব্যক্তির ত্রুটি নয়, তা শুক্রবারই স্পষ্ট হয়েছিল। কিন্তু ওই, প্রশ্ন তুললেই বলা হবে, রাজনীতি করা যাবে না।

কোনটা রাজনীতি? কোনটা নয়?

ভারতীয় রেলের টুইটার হ্যান্ডেলে এখনও ২০২২ সালের ২২ মার্চের টুইটটি জ্বলজ্বল করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি দেওয়া সেই পোস্টারে ‘কবচ’ সিস্টেমের ঢক্কানিনাদ ছিল। কিন্তু কবচ যে করমণ্ডলকে রক্ষা করেনি তা দেখেছে গোটা দুনিয়া। নইলে কখনও মালগাড়ির কামরার উপর করমণ্ডলের ইঞ্জিন উঠে যায়? নাকি হাম সফরের কামরা করমণ্ডলের পেট ফুঁড়ে ঢুকে যায়?

বন্দেভারত নিয়ে আহ্লাদিত হওয়া শেষ হচ্ছে না। সেই ঝাঁ চকচকে ট্রেনের মনিটরের স্ক্রিনে সারাক্ষণ মোদীস্তুতি চলছে। সেটা রাজনীতি নয়। কিন্তু দুর্ঘটনা হলে পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুললে তা হবে রাজনীতি, মানবিকতার বৃত্তের বাইরে। সেসব প্রশ্ন তুললে পরিমাণ মতো দেশদ্রোহী বা পাকিস্তানের দালাল জাতীয় তকমাও জুটতে পারে।

দেশে এখন একটা অলিখিত নিয়ম আছে—যা কিছু ভাল, তা সবই মোদীর কৃপায়। যা কিছু খারাপ, ব্যর্থতা—তার দায় মোদীর নয়। গুজরাতে বিজেপির বিরাট জয়ের কারণ মোদীই। কিন্তু কর্নাটকে বিজেপির নিদারুণ হারের দায় তাঁর নয়। বিজ্ঞানীরা কোভিডের ভ্যাকসিন বানালেন, বিজেপি তার মোদীকরণ করল। কিন্তু অপরিকল্পিত লকডাউনে ক্লান্ত পদচারণার পর রেললাইনে শুয়ে থাকা শ্রমিকদের শরীরের উপর দিয়ে যখন ট্রেন চলে গেল, তার দায় প্রধানমন্ত্রীর নয়। স্বয়ংক্রিয় সিগনালিং ব্যবস্থা নিয়ে যখন গতবছর ঢাক পেটানো হল, তখন তা করা হয়েছিল ‘বিশ্বগুরুর’ মুখকে সামনে রেখেই। বালেশ্বর বিপর্যয়ের সেই ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই ধেয়ে আসবে—‘মানবিকতা বলে কিছু নেই?’

নোটবন্দির সময়ে কত কথাই না শোনা গিয়েছিল। দু’হাজারি নোট বাজারে এনে গোড়ার দিকে আইটি সেল এমনও প্রচার চালিয়েছিল, তাতে নাকি মাইক্রোচিপ থাকবে। জঙ্গিরা সেই টাকা ব্যবহার করলে জিপিএস ট্র্যাকারে ধরা পড়ে যাবে। গল্পের মাইক্রোচিপকে নতুন নোটে ঢোকানোর তত্ত্ব শুনে বিজ্ঞানীরাও মাথা চুলকেছিলেন। তবে সরকারিভাবে একটা দাবি করা হয়েছিল—দু’হাজারের নোট জাল করতে পারবে না কেউ। জাল টাকার কারবারীরাও ব্যাপারটাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিল। তারপর এমন বান্ডিল বান্ডিল দু’হাজারের নোট জাল হতে শুরু করল যে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বলতে বাধ্য হল, থাক বাবা। অনেক হয়েছে। যা বাজারে আছে তা তুলে নিই।

একটা দেশলাই বাক্সের দাম কত হবে তা ঠিক করে রাজনীতি। এতবড় দুর্ঘটনার পর রাজনীতি নিয়ে কথা হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ দেশ চালান যাঁরা, তাঁরা রাজনীতিই করেন। ভোটে জিতেই সরকার চালাচ্ছেন। মৌলিক প্রশ্ন উঠবেই। বিলাসী বন্দেভারত নিয়ে এত আদিখ্যেতা, পরিযায়ী শ্রমিক আর দক্ষিণভারতে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগীদের ভরসার ট্রেন করমণ্ডল নিয়ে এত গা ছাড়া ভাব কেন? প্রযুক্তি বাস্তবায়নের সময়ে মোদীর মুখ ব্যবহার করা হলে, তা ধাক্কা খাওয়ার দায় প্রধানমন্ত্রীর নয় কেন?

সবই মুখ থুবড়ে পড়ছে। এক এক করে। রেলের কবচ, দু’হাজারি নোট—সব। যা যা ছিল চকচকে রাংতায় মোড়া। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—আস্তে আস্তে যখন বেআব্রু হওয়া শুরু হয়েছে, তখন মোদীর করে নির্বাচনী গণমণ্ডল থাকবে তো?

এও এক রাজনীতিরই প্রশ্ন।

করমণ্ডল দুর্ঘটনার প্রথম খবর দেন ট্রেনে থাকা জওয়ান, লাইভ লোকেশনও পাঠান, উদ্ধারকাজেও নামেন


```