
শেষ আপডেট: 8 October 2018 14:28
জেন ডিনেজ়া, অ্যান্থনির সেলুনের ম্যানেজার। তিনি জানালেন, অনেক সময়েই এমন হয়, নতুন কোনও খদ্দের সেলুনে এলেন। নাপিতের বয়স দেখে হয়তো ফিরেই গেলেন। "আমরা হেসে ফেলি। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এটাই, আজকাল যুবকদের মধ্যেও এত অসুখ-বিসুখ দেখা যায়, অথচ অ্যান্থনির কখনও পায়ে ব্যথাও হয় না। একটি কুড়ি বছরের ছেলে সারা দিনে যত মানুষের চুল কাটতে পারে, অ্যান্থনি তার চেয়েও বেশি কাটেন।"
কিন্তু এই বয়সেও এত সুস্থ ও এত কর্মক্ষম থাকার রহস্যটা কী?
অ্যান্থনি বলছেন, "আমি সব সময় চেষ্টা করি সারা দিন কাজ করে খুশি থাকার। কোনও রকম নেশা করি না। পরিমিত খাই, যাতে ওজন না বাড়ে। ব্যস, এটুকুই। মাঝে মাঝে সকলের চাপে পড়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হয় আমায়, কিন্তু গিয়ে তাঁকে কিছুই বলার থাকে না। আমার না আছে কোনও ব্যথা, না আছে কোনও অসুবিধা। কোনও কিছুতেই সমস্যা হয় না আমার। এটা ডাক্তাররাও বুঝতে চান না।"
১৪ বছর আগে স্ত্রীকে হারিয়েছেন। জীবনের শোক বলতে সেটাই। তা-ও সামলে নিয়েছেন একটানা কাজের মধ্য়ে দিয়েই। প্রতি দিন কাজে আশার আগে এক বার করে ছুঁয়ে আসেন স্ত্রী-র কবর। নিজেই গাড়ি চালিয়ে আসেন সেলুনে। নিজের খাবার নিজে রান্না করেন। অবসরে টেলিভিশন দেখেন। এমনকী কাজের শেষে নিজের অংশটুকু ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কারও করেন নিজেই।
ডিনেজ়ার কথায়, "সারা পৃথিবী যখন বার্ধক্যের সঙ্গে লডা়ই করছে, যুবা থাকার জন্য হাজারো চেষ্টা করছে, এই মানুষটার কাছে যেন বার্ধক্য নিজেই এসে পরাজিত হয়েছে। কোনও ওষুধ নয়, ক্রিম নয়, শারীরিক কসরৎ নয়, শুধু নিয়মানুবর্তিতা আর কাজের প্রতি ভালবাসা-- এই দিয়েই জরাকে ধরে রেখেছেন অ্যান্থনি।"