দ্য ওয়াল ব্যুরো : অদ্ভুত এক বর্ণময় চরিত্র তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, বিরাট কোহলি যদি তাঁর স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা ছাড়া আর কাউকে মনের কথা বলেন, তিনি যজুবেন্দ্র চাহাল। দারুণ মজার মানুষ ৩০ বছরের এই লেগস্পিনার। ভারতীয় অধিনায়কের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব নিয়ে অনেক গল্প।
সারাক্ষণ হইচই করছেন, নাচছেন, গাইছেন, কাউকে চটিয়ে দিচ্ছেন, যে কোনও বার্থ ডে পার্টিতে চাহালের কাজই হল, সেই ক্রিকেটারকে কেক মাখিয়ে ভূত করে দেবেন। কিভাবে তিনি ওই কাজটি করবেন, কেউ টেরও পাবে না। সোমবার আইপিএলের ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মুখ থেকে জয়ের গ্রাস কেড়ে নিয়ে তিনিই মধ্যমণি বিরাট কোহলিদের শিবিরে।
১৮ রানে তিন উইকেট, তার চেয়েও বড় কথা, নিজের শেষ ওভারে বোলিং করতে এসে চাহাল পরপর দুই বলে তুলে নিয়েছেন জনি বেয়ারস্টো ও বিজয় শঙ্করের উইকেট। বেয়ারস্টোকে এমন বোলিং করেছেন, তিনি ফ্লাইটে ঠকে গিয়ে বোল্ডই হয়ে গিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বেয়ারস্টোকে আউট করাটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
বেয়ারস্টোর উইকেট নেওয়া প্রসঙ্গে চাহাল বলেছেন, ‘‘সব বল আমি জোরে করতে পারি না। কিছু ওয়াইড ডেলিভারি, কিছু টার্নিং থাকবেই, যেগুলো মারা কঠিন হয়। ওই ডেলিভারিটা লেগস্টাম্পের উপর স্ট্রেটার রেখেছিলাম।’’ পরের বলেই তাঁর শিকার ছিল বিজয় শঙ্কর, যিনি ওই বোলিং প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‘আমি ওই বলটা করার আগেই বিরাট এবং এবি (ডি’ভিলিয়ার্স) দুইজনই বলেছিল বলটা যেন গুগলি করি, সেটাই করতে ও ঠকে গিয়েছে।’’
চাহাল হরিয়ানার ক্রিকেটার হলেও বর্তমানে তাঁদের পরিবার থাকেন পাতিয়ালাতে। বাবা কে কে চাহাল আইনজীবি ও মা সুনীতা দেবী গৃহবধূ। চাহালের দু’জন দিদি রয়েছেন, যাঁরা পাকাপাকিভাবে থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। চাহাল মেধাবী ছাত্র ছিলেন, এমনকি তিনি একসময় বিশ্ব যুব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। একবার জাতীয় দাবার আসরে রানার্স আপ হয়।
দাবাতেও তিনি নাম করতেন, কিন্তু দাবায় ভাল স্পনসরের প্রয়োজন হয়, সেই স্পনসরের থলি নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে তিনি ক্রিকেট ট্রেনিং নিতে শুরু করেন। ১৫ বছরে ক্রিকেট শুরু করে ১৯ বছর বয়সে তিনি রঞ্জিতে হরিয়ানার হয়ে অভিষেক করেন ২০০৯-১০ মরসুমে। ২০১১ সালে তিনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল খেলেন প্রথম। সেবার অবশ্য মাত্র দুটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালে ওয়ান ডে এবং টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেটে ভারতের হয়ে অভিষেক হয়।
খুব দ্রুত তাঁর উত্থান ঘটেছে। একটা সময় মামুলি ক্রিকেটার ছিলেন, কিন্তু ক্রমে নিজের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতায় কোহলিদের শিবিরে তারকা হয়ে উঠেছেন। যাঁর এবারে লকডাউনের সময় সঙ্গী নির্ধারনের বিষয়টিও বেশ চমকপ্রদ। বাড়িতে বসে ডান্সের একটি অনলাইন ক্লাস করতে গিয়ে আলাপ হয় নামী ডান্সার ধনশ্রী ভার্মার সঙ্গে। সপ্তাহ তিনেকের ক্লাসের পরেই তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এই নামী ক্রিকেটার। ধনশ্রীর দিক থেকে সাড়া পেতেই তাঁকে গত আগস্ট মাসে এনগেজমেন্ট রিং-ও পরিয়ে দিয়েছেন।
মাঠ ও মাঠের বাইরে এমন এক চরিত্রও যে কোনও মানুষের কাছে আকর্ষণের। যতই তিনি বিপক্ষের কাছে আতঙ্কের নাম হোন না কেন, আদতে যজুবেন্দ্র এক চমকপ্রদ মজাদার মানুষ।