কিং কোহলির দুরন্ত সেঞ্চুরিতে অ্যাডিলেড জয় ভারতের
দ্য ওয়াল ব্যুরো : সিরিজে টিকে থাকার দৌড়ে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নেমেছিল ভারত। গুরুত্ত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জ্বলে উঠলেন অধিনায়ক। বিরাট কোহলির দুরন্ত শতরান ও ফিনিশার ধোনির উপর ভর করে অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারালো ভারত। সমতা ফিরল সিরিজে।
শেষ আপডেট: 15 January 2019 11:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো : সিরিজে টিকে থাকার দৌড়ে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নেমেছিল ভারত। গুরুত্ত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জ্বলে উঠলেন অধিনায়ক। বিরাট কোহলির দুরন্ত শতরান ও ফিনিশার ধোনির উপর ভর করে অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারালো ভারত। সমতা ফিরল সিরিজে।
এ দিন প্রথমে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক ফিঞ্চ। কিন্তু শুরুতেই ভুবনেশ্বর কুমার ও মহম্মদ শামির আঁটোসাঁটো বোলিংয়ে রান পাচ্ছিলেন না দুই ওপেনার। ৬ রানের মাথায় অধিনায়ক ফিঞ্চকে বোল্ড করেন ভুবনেশ্বর। ১৮ রানের মাথায় শামির বলে আউট হন অন্য ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারিও। ২৬ রানে অস্ট্রেলিয়ার দুই উইকেট পড়ে যায়।
তারপর খেলা ধরেন শন মার্শ ও উসমান খোয়াজা। কিন্তু ২১ রানের মাথায় রবীন্দ্র জাদেজার দুরন্ত থ্রোয়ে আউট হন খোয়াজা। অন্যদিকে মার্শ নিজের খেলা চালিয়ে যান। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন হ্যান্ডসকম্ব, স্টয়নিস ও ম্যাক্সওয়েল। প্রথম দুজন বেশি রান করতে না পারলেও ম্যাক্সওয়েল ৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে চলতি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মার্শ।
যথেষ্ট গতিতে রান তুলছিলেন তাঁরা। দেখে মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৩২৫ রানের কাছাকাছি হয়ে যাবে। কিন্তু তখনই এক ওভারে প্রথমে ৪৮ রানের মাথায় ম্যাক্সওয়েল ও তারপর ১৩১ রানের মাথায় মার্শের উইকেট তুলে নেন ভুবনেশ্বর কুমার। ফলে শেষ পাঁচ ওভারে বেশি রান তুলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ৯ উইকেটের বিনিময়ে ২৯৮ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। ভারতের হয়ে ভুবনেশ্বর কুমার ৪ ও মহম্মদ শামি ৩ উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে এ দিন শুরুটা ভালোই করেন দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা। বিশেষ করে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন ধাওয়ান। ২৮ বলে ৩২ রান করে বেহেরনড্রফের বলে আউট হন ধাওয়ান। তারপর পার্টনারশিপ গড়েন অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও তাঁর ডেপুটি রোহিত শর্মা। এ দিনও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল রোহিত শর্মাকে। কিন্তু ৪৩ রানের মাথায় স্টয়নিসের বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রোহিত।
কোহলি অন্যদিকে নিজের সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন। রিস্ক না নিয়ে সিঙ্গল-ডবলের মাধ্যমে রান আসছিল। ২৪ রানের মাথায় ম্যাক্সওয়েলকে মারতে গিয়ে আউট হন রায়ুডু। পাঁচ নম্বরে নামা ধোনি শুরু থেকে ধীরে খেলছিলেন। ফলে গিয়ার বদলান কোহলি। চার-ছয় আসতে থাকে তাঁর ব্যাট থেকে। মিড উইকেট দিয়ে ডবল নিয়ে একদিনের ক্রিকেটে নিজের ৩৯ তম শতরান পূর্ণ করেন কোহলি।

বিরাটের ব্যাটিং দেখে বোঝা যাচ্ছিল নিজের কাঁধেই ম্যাচ বের করতে চান অধিনায়ক। অন্যদিকে চার-ছয় না পেলেও সিঙ্গল-ডবলে নিজের রান করছিলেন ধোনি। আস্কিং রেট আয়ত্তের মধ্যে রেখে রান তুলছিলেন তাঁরা। অ্যাডিলেডের বড় মাঠের সুযোগ তুলছিলেন দুই ব্যাটসম্যান। তাঁদের আউট করার কোনও সুযোগ পাচ্ছিলেন না অজি বোলাররা।
যখন মনে হচ্ছিল দুই ব্যাটসম্যানই ভারতকে জয়ের দরজায় নিয়ে যাবেন, তখনই ঝটকা। রিচার্ডসনকে মিড উইকেট দিয়ে ছয় মারতে গিয়ে ম্যাক্সওয়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০৪ রানের মাথায় ফিরে যান কোহলি। কোহলি আউট হতেই ব্যাটিংয়ে বদল এল ধোনির। হাত খোলা শুরু করলেন। লিওঁকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে লম্বা ছক্কা মেরে শুরু করলেন আগ্রাসী ব্যাটিং।
অন্যদিকে সঙ্গত দিচ্ছিলেন দীনেশ কার্তিক। বোলিং অনুযায়ী খেলছিলেন তাঁরা। কোনও তাড়াহুড়ো ছিল না তাঁদের ব্যাটিংয়ে। বেশি আগ্রাসী দেখাচ্ছিল নাইট রাইডার্স অধিনায়ককে। ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিং করছিলেন দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭ রান। প্রথম বলেই ছয় মেরে চলতি সিরিজে নিজের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ধোনি। পরের বলেই সিঙ্গল নিয়ে ম্যাচ পকেটে পুড়ে নেন ধোনি। মাহি ৫৫ ও কার্তিক ২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৪৯.২ ওভারেই ২৯৯ রান তুলে ৬ উইকেটে জয় পায় ভারত।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ আপাতত ১-১ ফলে রয়েছে। তিন নম্বর ম্যাচ হবে মেলবোর্নে। সেখানেই ফয়সালা হয়ে যাবে সিরিজের। এখন দেখার, টেস্টের মতো একদিনের সিরিজও নিজের পকেটে পুড়তে পারে কিনা বিরাট বাহিনী।