দ্য ওয়াল ব্যুরো: এস্টাডিও গভার্নাদোর মেঘালহায়েস পিন্টো। ছোট করে ব্রাজিলীয়রা বলেন বেলো হরাইজন্তে বা মিনাজ গ্যারাজ। মনে পড়ে পাঁচ বছর আগের ৯ জুলাইয়ের কথা? এই স্টেডিয়ামের সেন্টার সার্কেলের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে হাউ হাউ করে কাঁদছেন ডেভিড লুইস। ১৮ গজ বক্সের বাইরে ঘাসে মুখ গুঁজে শুয়ে রয়েছেন অস্কার ডি’ সিলভা। নিজেকে তোলার শক্তি নেই। আর ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিল ফুটবলারদের পাশে তখন উল্লাস করছে টিম জার্মানি।
চোদ্দর বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ৭-১ গোলে হার পেলের দেশের। গ্যালারিতে কান্না। সেলেকাও ফুটবলের কালো দিন। মিরোস্লাভ ক্লোসে, সামি খেদিরা, টনি ক্রুজদের তিরে বিদ্ধ ব্রাজিল। রাত পোহালেই আরও একটা সেমিফাইনাল। সেই মাঠেই। উনিশের কোপা আমেরিকার সেমি ফাইনালে নামছে ব্রাজিল।
উল্টোদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। অফ ফর্মে থাকা মেসির আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচ হেরে, দ্বিতীয় ম্যাচ ড্র করে, তৃতীয় ম্যাচে কোনওরকমে জিতে সেকেন্ড রাউন্ডে ওঠা আর্জেন্টিনা। শেষ তিনটে বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে গিয়ে হেরে বিদায় নেওয়া আর্জেন্টিনা।
সারা দুনিয়া তাকিয়ে রয়েছে ম্যাচটার দিকে। থাকারই কথা। লাতিন ফুটবলের শ্রেষ্ঠ দুটো দলের খেলা। কিন্তু দুটো দলেরই লড়াই যেন অভিশাপ কাটানোর। ব্রাজিল ফুটবলে দীর্ঘ দিনের খরা। আর অন্যদিকে মেসির লড়াই নিজের সঙ্গে।
বার্সেলোনাকে যে ছেলেটা এভারেস্টের উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, সেই ছেলেটার একটাও ট্রফি নেই দেশের জার্সি গায়ে। বিশ্বকাপ ফাইনালে মারিও গোটজের গোলে স্বপ্নভঙ্গ, আর পরপর দুটো কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হেরে বিদায়।
শেষ ম্যাচে কাতারকে হারিয়ে সেরা আটে পৌঁছেছিল মেসির আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে গোল শূন্য ড্র করেন মেসি, আগুয়েরারা। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, এই আর্জেন্টিনা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। শেষ আটের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই মুখ খুলেছেন মেসি। বলেছেন, “এ বারই তো লড়াই শুরু।” কোয়ার্টার ফাইনালে হেলায় হারিয়েছেন ভেনেজুয়েলাকে। ও দিকে ব্রাজিলও গ্রুপ লিগের দুটি ম্যাচ জিতে এবং একটি ম্যাচ ড্র করে সাত পয়েন্ট নিয়ে সেকেন্ড রাউন্ডে যায়। তারপর কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে রুদ্ধশ্বাস জয়। নেমার না থাকলেও দলগত ফুটবলে নজর কেড়েছে সেলেকাওরা। কোনও গোল হজম করেনি এখনও পর্যন্ত। এই টুর্নামেন্টের আগেও শেষ ১৪টি ম্যাচে কোনও গোল খায়নি ব্রাজিল ডিফেন্স। এ দিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণ ভাগে মার্টিনেজ প্রতিদিন নিজেকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন।
এখনও পর্যন্ত দু’দল মুখোমুখি হয়েছে ১১০ বার। মুখোমুখি সাক্ষাতে ব্রাজিল অনেকটাই এগিয়ে। পরিসংখ্যান বলছে এই ১১০টি ম্যাচের মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে ৪৭টিতে। আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছে ৩৮টিতে। ড্র হয়েছে ২৫টি ম্যাচ। তবে এই ছবিটা সার্বিক। কোপা আমেরিকার রেকর্ড ধরলে সাম্বাবাহিনীর তুলনায় অনেকটা এগিয়ে আর্জেন্টাইন টিম। আজ পর্যন্ত ২২ বার দেখা হয়েছে দু’দলের। সেখানে আর্জেন্টিনা জিতেছে ১৪টিতে। আটবার জিতেছে ব্রাজিল।
টিম যাই হোক, এই ম্যাচ আসলে স্নায়ু-যুদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুরুর ১৫ মিনিট মাঝ মাঠের দখল যার, ম্যাচও তার। সব মিলিয়ে টানটান লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল দুনিয়া।