দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি আইপিএলে ভারতের নানা শহরে বেটিং সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। নানা শহরে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বহু জুয়াড়িদের। এবার বেটিংয়ের রমরমা ছিল এই কারণেই যেহেতু টিভিতে বেশি মানুষ খেলা দেখেছেন।
আইপিএলে এর আগে স্পট ফিক্সিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই প্রথম জুয়া চক্রে ধরা পড়লেন ঘরোয়া ক্রিকেটের নামী এক মুম্বই ক্রিকেটার রবিন মরিস। তাঁকে সোমবার গ্রেপ্তার করেছে ভারসোবা পুলিশ। এমনকি একই অপরাধে তাঁর সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তিকেও ধরেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ।
১৯৯৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪৪টি প্রথম শ্রেণি ও ৫১টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন রবিন। ব্যাট হাতে প্রায় তিন হাজারের কাছাকাছি ও বল হাতে ১২২ উইকেট রয়েছে ৫৪ বছর বয়সী রবিনের নামের পাশে। কখনও জাতীয় দলে সুযোগ হয়নি তাঁর। কিন্তু মুম্বই দলে ছিলেন তিনি। এমনকি একবার মরিস ওড়িশার হয়েও রঞ্জি খেলেছিলেন।
গোপন খবরের ভিত্তিতে রবিনের ভারসোবার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। আগে থেকেই খবর ছিল, তার বাড়িতে নিয়মিত বেটিংয়ের আসর বসত। ওই প্রাক্তন ক্রিকেটারের বাড়িতে গিয়ে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হবে।
পুলিশের এক আধিকারিক মিডিয়া প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, ‘‘রবিনের ওপর আমাদের আইপিএলের শুরু থেকেই নজর ছিল, ওকে আমরা ট্র্যাক করতে পারছিলাম না, একেবারে টুর্নামেন্টের শেষে এসেই ধরলাম। ওই ক্রিকেটার নিয়মিত বাজি ধরত ম্যাচ নিয়ে, রীতিমতো জুয়া খেলত বাকিদের নিয়ে।’’
সব থেকে বড় বিষয়, ক্রিকেট জুয়ার সঙ্গে এর আগেও রবিনের যোগাযোগের খবর পাওয়া গিয়েছিল। গতবছর আল জাজিরা টিভির করা স্ট্রিং অপারেশনে পাকিস্তানের প্রাক্তন ব্যাটসম্যান হাসান রাজার সঙ্গে মিলে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে স্পট ফিক্সিংয়ের পরিকল্পনা করতে দেখা গেছে রবিনকে। যদিও ওই ঘটনা তিনি অস্বীকার করেছিলেন।
এছাড়া পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাও রবিনের জন্য প্রথম নয়। গতবছর একজন লোন এজেন্টের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা তছরুপের জন্য তাকে অপহরণ করেছিলেন রবিন ও চার সঙ্গী। তখনও রবিনকে ধরা হয়েছিল।
কেন কী কারণে দিনের পর দিন এমন ঘটনা ঘটিয়েও তিনি জামিন পাচ্ছেন, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।