Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটোহরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক

রাশিয়ায় বইছে এই নদী, জলের রঙ টকটকে লাল

রূপাঞ্জন গোস্বামী রাশিয়ার উত্তর দিকে মেরু বৃত্তের শহর নরিলস্ক। ২০১৬ সালে বসন্তে নরিলস্ক শহরের বাসিন্দা পিটার লুনিয়েভ সোশ্যাল মিডিয়ায়  পোস্ট করেছিলেন একটি ছবি। সেই ছবি দেখে চমকে উঠেছিল বিশ্ব। ধুসর কালো প্রান্তরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে এক নদী।

রাশিয়ায় বইছে এই নদী, জলের রঙ টকটকে লাল

শেষ আপডেট: 4 May 2020 05:42

রূপাঞ্জন গোস্বামী
রাশিয়ার উত্তর দিকে মেরু বৃত্তের শহর নরিলস্ক। ২০১৬ সালে বসন্তে নরিলস্ক শহরের বাসিন্দা পিটার লুনিয়েভ সোশ্যাল মিডিয়ায়  পোস্ট করেছিলেন একটি ছবি। সেই ছবি দেখে চমকে উঠেছিল বিশ্ব। ধুসর কালো প্রান্তরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে এক নদী। যার জলের রঙ রক্তের মতো লাল। অনেকে ভেবেছিলেন ছবিটি ফোটোশপের কারসাজি। ব্যঙ্গ বিদ্রুপে ভরে গিয়েছিল পিটার লুনিয়েভের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটির কমেন্ট বক্স। এর পরেও পিটার লুনিয়েভ পোস্ট করেছিলেন আরও কয়েকটি ছবি। ছবির বিষয় সেই নদী, যার জলের রঙ টকটকে লাল। এরপর নরিলস্ক শহরের আরও কিছু বাসিন্দা পিটার লুনিয়েভের মতোই নদীটির ছবি পোস্ট করতে শুরু করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তখন সারা বিশ্বের নেটিজেনদের মনে হয়েছিল পিটার লুনিয়েভ মিথ্যে বলেননি। ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হওয়া শুরু হয়েছিল পিটার লুনিয়েভের ছবিগুলি। রাশিয়ার দরজা বিশ্বের কাছে চিনের মতো পুরোপুরি বন্ধ না হলেও রাশিয়ার অনেক কিছু খবর আজও বাইরে আসে না। যেমন বাইরে আসেনি সারা গ্রীষ্মকাল রক্তলাল জল নিয়ে বয়ে চলা নদীর কথা।নদীর নাম ডাল্ডিক্যান। নেটিজেনরা এই নদীর নাম কখনও শোনেননি।
তবে অনেকেই জানতেন নরিলস্ক শহরটির নাম
এই শহরেই আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিকেল উৎপাদনকারী কারখানা নরনিকেল। রাশিয়ার উত্তরে থাকা এই শহরটি দেখতে কেমন যেন ভয়াবহ। ঝাঁ চকচকে নয়, বিবর্ণ বিষণ্ণ। দিনের চব্বিশ ঘন্টাই শহরের আকাশ ধোঁয়ায় ঢাকা থাকে। বাতাসে সবচেয়ে বেশি সালফার ডাই অক্সাইড উগড়ে দেয় এই নরিলস্ক শহর। চারিদিকে আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। শহরটি জুড়ে রয়েছে একশো দেড়শো বছরের পুরোনো কল-কারখানা। কারখানা গুলির চিমনি ও টিনের ছাদগুলিতে প্রায় অর্ধশতাব্দী রঙের পোঁচ পড়েনি। কারখানার আশেপাশে ছড়িয়ে আছে  হাজার হাজার রঙচটা বাড়ি ঘর। শহরটির আশপাশের খনি থেকে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি নিকেল ও ক্যাডমিয়াম উৎপাদিত হয়। শহরের মাটিতে সবুজ নেই বললেই চলে। দূষণ এতই বেশি যে মেরুবৃত্তের কাছে থাকা শহরটিতে জমে থাকা বরফের রঙও কালো। কালচে ধুসর মাটির ওপর ঝিমিয়ে থাকা শহরটিকে ওপর থেকে দেখলে মনে হবে পৃথিবী ওখানে থেমে আছে ১৯০০ সাল থেকে। [caption id="attachment_216732" align="aligncenter" width="600"] নরিলস্ক শহর[/caption]
কেন লাল নদীর জল!
এভাবেই প্রচারের আড়ালে যুগের পর যুগ কাটিয়ে যাচ্ছিল রাশিয়ার সবচেয়ে দূষিত শহর নরিলক্স। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়া ছবিগুলি আবার নরিলক্স শহরটিকে ফিরিয়ে এনেছিল প্রচারের আলোয়। সারা বিশ্বের ছিল একটাই প্রশ্ন,  ভয়াবহ শহরটির বুক চিরে বয়ে চলা ডাল্ডিক্যান নদীটির জলের রঙ রক্ত-লাল কেন?
আরও পড়ুন:ঘন নীল জলে ভাসছে সবুজ হিমশৈল, লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বাঁচিয়ে চলেছে পৃথিবীকে
খনি বিশেষজ্ঞ ডেভিড চেম্বার, ইন্টারনেটে নদীটির ছবি দেখেছিলেন। তাঁর মতে, নদীর জলের রঙ লাল  হওয়ার জন্য দায়ী, আশেপাশে থাকা খনি ও নিকেল উৎপাদনকারী কারখানাগুলির বর্জ্যে মিশে থাকা অক্সিডাইজড আয়রন। সেই লোহা ডাল্ডিক্যান নদীর জলে মিশে জলের রঙ আলতার মতো লাল করে দিচ্ছে। এরকম অনেকবার হয়েছিল কানাডার সাডবেরিতে। স্থানীয় নিকেল ফ্যাক্টরিগুলি এভাবেই নিকটবর্তী নদীর জলকে প্রায় এই রকম লাল করে দিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য শুরু হওয়ার পর তদন্ত কমিশন বসিয়েছিল রাশিয়া সরকার। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়েছিল নরিলস্ক  অবস্থিত রাশিয়ার তথা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিকেল নিষ্কাশন কারখানা ‘নরনিকেল’। আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়েছিল কারখানাটিকে। মাত্র ৮৮০ ডলার। রাশিয়ার ইঞ্জিনিয়ারেরা গিয়ে কারখানাটির বর্জ সুবিশাল পাইপের মাধ্যমে শহর থেকে দূরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। [caption id="attachment_216739" align="aligncenter" width="690"] পৃথিবীর বৃহত্তম নিকেল উৎপাদনকারী কারখানা নরনিকেল।[/caption]
কিন্তু বসন্ত এলেই নদীর জল আবার হয়েছিল রক্ত লাল
২০১৬ সালের পর ২০১৭, ২৯১৮ ,২০১৯ সালেও নদীর জল গ্রীষ্মে লাল হয়েছিল। এমনকি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসেও রক্তবর্ণ জল নিয়ে বইছে ডাল্ডিক্যান নদী। অথচ নদীর জলে কারখানার বর্জ পড়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া। বিভিন্ন ভূবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন মত। কেউ বলেছেন, উত্তর মেরুর কাছে থাকার জন্য নরিলস্ক শহরে প্রায় সারা বছর জুড়েই বরফ পড়ে। গ্রীষ্মের সময় বরফগলা জল, প্রাচীন  শহরে জমে থাকা  বহু পুরোনো বর্জ্যগুলিকে ডাল্ডিক্যান নদীতে এনে ফেলে। তাই নদীর জল হয় আলতা লাল। কেউ বলেছেন ডাল্ডিক্যান নদীটি থেকে কিছু দূরে একটি হ্রদ আছে। যার জলের রঙও লাল। কোনও ভাবে হ্রদের লাল জল এসে মিশছে নদীতে। কিন্তু হ্রদ ও নদীর জল কেন লাল,তার কোনও ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি রাশিয়ার কাছ থেকে। রহস্যের কিনারা তাই এখনও হয়নি। নরিলস্ক শহরের বাসিন্দাদের অনেকে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নৃশংস কিছু গণহত্যা দেখেছে এই শহর। বিভিন্ন কারখানার ভেতরে হাজার হাজার মানুষকে মেরে, লাশগুলি ফেলে দেওয়া হয়েছিল ডাল্ডিক্যান নদীতে। তাই ভগবানের অভিশাপে নদীর জল মাঝে মাঝে লাল হয়ে যায়। নদীর লাল জল, শহরের মানুষদের মনে করিয়ে দেয় ফেলে আসা মর্মান্তিক ইতিহাস।
আরও পড়ুন: আমাজনের গহনে বইছে ফুটন্ত এক নদী, জলের তাপমাত্রা ২০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট
ডাল্ডিক্যান নদীর ওপরে জমে থাকা বিষাক্ত কুয়াশাকে আরও জমাট করে দিয়েছেন শহরের কিছু প্রবীণ বাসিন্দা। সোশ্যাল মিডিয়াতে তাঁরা জানিয়েছেন। এ ঘটনা আজকের নয়, শত শত বছরের পুরোনা। তাঁদের বাপ ঠাকুর্দা, এমনকি তাঁদেরও বাপ ঠাকুর্দারা  ছোটবেলায় ছড়া কাটতেন, “বসন্ত এসে গেলো, ডাল্ডিক্যান লাল হলো।” কিন্তু নরিলস্ক শহরে তখন তো কোনও খনি বা কারখানা ছিল না। তখন নরিলস্ক ছিল কৃষিজীবীদের গ্রাম। তাহলে তখন ডাল্ডিক্যানের জল বসন্তকালে লাল হতো কী ভাবে? কোটি ডলারের প্রশ্ন এখন এটাই। উত্তর জানে একজনই। হিমশীতল রক্তধারার মতো স্রোত নিয়ে বইতে থাকা নদী ডাল্ডিক্যান।

```