Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটোহরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক

বিজ্ঞান দিল চাঞ্চল্যকর খবর, হিংস্র সাদা হাঙরদের বিচিত্র পদ্ধতিতে হত্যা করে তাদের লিভার খায় খুনে-তিমি

 রূপাঞ্জন গোস্বামী সমুদ্র সবসময়ই রহস্যময়। মানুষ দূর মহাকাশের অনেক জটিল ধাঁধার সমাধান করেছে। কিন্তু আজও, হাতের নাগালে থাকা সাগরের অতল জলে লুকিয়ে থাকা অনেক রহস্যের সমাধান করতে পারেনি। তাই আজও সমুদ্র এক রহস্যময় জগৎ, যা সম্ভবত মহাকাশের চেয়েও আক

বিজ্ঞান দিল চাঞ্চল্যকর খবর, হিংস্র সাদা হাঙরদের বিচিত্র পদ্ধতিতে হত্যা করে তাদের লিভার খায় খুনে-তিমি

শেষ আপডেট: 26 April 2019 11:05

 রূপাঞ্জন গোস্বামী

সমুদ্র সবসময়ই রহস্যময়। মানুষ দূর মহাকাশের অনেক জটিল ধাঁধার সমাধান করেছে। কিন্তু আজও, হাতের নাগালে থাকা সাগরের অতল জলে লুকিয়ে থাকা অনেক রহস্যের সমাধান করতে পারেনি। তাই আজও সমুদ্র এক রহস্যময় জগৎ, যা সম্ভবত মহাকাশের চেয়েও আকর্ষণীয়। সেই রহস্যময় জগতের ত্রাস হল সাদা হাঙর বা গ্রেট হোয়াইট শার্ক (Carcharodon carcharias)। যাদের বলা হয়  সমুদ্রের সবচেয়ে নৃশংসতম খুনি। প্রাগৈতিহাসিক এই খুনিরা, রক্তের গন্ধ পেতে কখনও সাঁতার থামায় না। কোনও জীবকে ভয় করে না। [caption id="attachment_98956" align="aligncenter" width="800"] গ্রেট হোয়াইট শার্ক[/caption] এদের হাত থেকে পরিত্রাণ এক কথায় অসম্ভব। এই হোয়াইট শার্কদের খাদ্য হওয়া থেকে রেহাই মেলে না পেঙ্গুইন, সিল, সিন্ধুঘোটক থেকে শুরু করে সামুদ্রিক পাখিদের। সমুদ্রের গর্ভে থাকা প্রায় সব বড় প্রাণীকেই খাবার হিসেবে খেয়ে নেয় এই সাদা হাঙরেরা।

সেই প্রাগৈতিহাসিক খুনিরাই আজ আতঙ্কিত!

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণামূলক প্রবন্ধে, এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। জীববিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন গ্রেট হোয়াইট শার্কদের অ্যাকিলিস হিল বা দুর্বলতা। হ্যাঁ এই নৃশংস খাদকদেরও আতঙ্কিত করে রেখেছে একটা প্রাণী। প্রানীটি হল কিলার হোয়েলস (Orcinus orca) বা খুনে তিমি নেচার সায়েন্টিফিক পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণামূলক প্রবন্ধটিতে জানা গেছে হোয়াইট শার্কদের তিমি-আতঙ্কের কথা। খুনে-তিমির গন্ধ পেলেই, গ্রেট হোয়াইট শার্করা আর ত্রিসীমানায় থাকে না। কারণ, খুনে তিমির সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য, সাদা হাঙরের লিভার।  সাদা হাঙরকে পেট চিরে মেরে, নাড়িভুঁড়ির জট থেকে লিভার বের করে কচকচিয়ে খায় খুনে-তিমিরা। [caption id="attachment_98958" align="aligncenter" width="795"] খুনে তিমি[/caption] ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রতটের The Greater Farallones National Marine Sanctuary হলো  সাদা হাঙরদের মনপসন্দ বাসভূমি ও শিকার করার আদর্শ জায়গা। আমেরিকার মন্টেরে বে অ্যাকোরিয়াম-এর সিনিয়র রিসার্চ সায়েন্টিস্ট, সালভাদর জরগেনসেন,  প্রায় এক দশক আগে গ্রেট হোয়াইট শার্কদের নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এখানে। জরগেনসেনের টিম, ২০০৯ সালে দক্ষিণ-পূর্ব ফারালোন দ্বীপপুঞ্জের কাছে ১৭ টি  সাদা হাঙরের দেহে রেডিও চিপ বসিয়ে দেয়। টিমটি লক্ষ্য করে, হাঙররা এখানকার সমুদ্রে দিব্যি সিল ও সিন্ধুঘোটকদের শিকার করে বেঁচে থাকে। ফুর্তিতে জীবন কাটায় ও বংশবৃদ্ধি করে। কিন্তু  এই সুখের জীবনই ভয়াবহ হয়ে ওঠে, যখন এলাকায়  প্রবেশ করে খুনে-তিমিরা। মূর্তিমান বিভীষিকা সাদা হাঙরের দল নিজেরাই আতঙ্কিত হয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। সত্যিই তো, কে এই পৃথিবীতে যেচে অন্যের মুখের গ্রাস হতে চায়।

খুনে-তিমির ভয়ে সাদা হাঙরেরা এক বছর এলাকায় ফিরে আসে না

প্রাথমিক গবেষণাতে এই  চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়ে, জরগেনসেন ও তাঁর টিম গবেষণার এলাকা বাড়িয়ে দিলেন। আরও নির্ভুলভাবে গবেষণা করার জন্য। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে তাঁরা ১৬৫টি  সাদা হাঙরের দেহে জিপিএস চিপ বসালেন। সেই সঙ্গে এলাকার শেষ ২৭ বছরের 'সার্ভে রিপোর্ট' জোগাড় করলেন। যে রিপোর্টে, The Greater Farallones National Marine Sanctuary এলাকায় থাকা হাঙর, তিমি, সিল, সিন্ধুঘোটক ও খুনে তিমিদের বাৎসরিক সংখ্যা ও এলাকার খাদ্যশৃঙ্খল ও জৈব বৈচিত্রের সব তথ্য নিঁখুতভাবে ধরা আছে। চলল তথ্যের সঙ্গে তথ্য মেলানোর কাজ। একই সঙ্গে চলল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ১৬৫টি সাদা হাঙরের গতিবিধির ওপর নজরদারি। তথ্য মিলিয়েই বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, তাঁদের অনুমান সঠিক। খুনে তিমি এলাকায় এলে বা আসার সম্ভবনা থাকলেও সাদা হাঙররা দলে দলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।  এক বছরের মধ্যে সাদা হাঙররা আর ওই এলাকায় ফিরে আসে না, এমনই তাদের তিমি-আতঙ্ক। জরগেনসেন প্রবন্ধটিতে লেখেন, [caption id="attachment_98965" align="aligncenter" width="695"] জীববিজ্ঞানী সালভাদর জরগেনসেন[/caption]  খুনে-তিমিদের  মুখোমুখি হওয়ার সামান্যতম সম্ভবনাও রাখতে চায় না সাদা হাঙরেরা।  দুই মাইল দূর থেকে খুনে তিমির গন্ধ  পায় তারা। একবার পেলেই গন্ধের উৎসের উল্টোদিকে রকেট গতিতে পালিয়ে যায়, সেই মরসুমে ওই এলাকায় ফিরে আসে না।  বিজ্ঞানী জরগেনসেন গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছেন, ফারালোনসের সমুদ্র এলাকায়, একটি সাদা হাঙর, বছরে গড়পড়তা  ৪০টি এলিফ্যান্ট সিল খায় । ২০০৯, ২০১০, ২০১৩ সাল গুলির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই বছরগুলিতে খুনে তিমিরা না আসায় সিলেদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। অর্থাৎ সিলেদের প্রধান খাদক সাদা হাঙরেরা খুনে-তিমিদের আতঙ্কে এলাকা ছাড়া হয়েছিল, তাই সিলেদের সংখ্যা নির্বিঘ্নে বেড়েছে।

 সাদা হাঙরদের বিচিত্র পদ্ধতিতে হত্যা করে খুনে তিমিরা

খুনে তিমির হাঙর খুন করার ঘটনা, প্রথম নজরে আসে ১৯৯৭ সালে। ফারালোনসের সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে একজন মৎসজীবী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি দেখেছিলেন এক জোড়া খুনে তিমি আক্রমণ করেছিল একটি অতিকায় সাদা হাঙরকে। যেটি একটি সি-লায়ন শিকার করে মহানন্দে ভোজ সারছিল। তীরের কাছে। খুনে-তিমি দুটি প্রথমেই সাদা হাঙরের পেট তাদের ধারালো দাঁত দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছিল। তারপর হাঙরের দুপাশে দুটি তিমি চলে গিয়ে, দু'দিক থেকে পিষতে থাকে সাদা হাঙরটিকে। পিছন দিক থেকে সামনের দিকে চাপ দিতে থাকে। ঠিক যেরকম ভাবে আমরা প্রায় ফুরিয়ে আসা টুথপেস্ট থেকে পেস্ট বার করি। [caption id="attachment_98969" align="aligncenter" width="1024"] সাদা হাঙরের পেট চিরে দিচ্ছে খুনে-তিমি[/caption] অল্পসময়ের মধ্যেই হাঙরটির পেটের ফাঁসা অংশ দিয়ে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে। বেরিয়ে আসে হতভাগ্য হাঙরটির লিভার, যার গন্ধ পেয়ে তিমি দুটি উন্মত্ত হয়ে ওঠে। হাঙরের লিভার ছিঁড়ে খুঁড়ে খেয়ে নেয় কয়েক মুহূর্তে। তারপর অন্য হাঙরের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। পেট ফাঁসা মৃত সাদা হাঙরটি ডুবে যায় সমুদ্রের জলে। দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্রতীরে ২০১৭ সালে পাঁচটা গ্রেট হোয়াইট শার্কের দেহ মেলে। প্রত্যেকটি সাদা হাঙরের শরীরে লিভার ছিল না। খুনে তিমিরা নিখুঁতভাবে সাদা হাঙরদের শরীরে সার্জারি চালিয়ে কেটে নিয়েছিল লিভার। যাদের সমুদ্রের সবচেয়ে নৃশংসতম খুনি হিসেবে ধরা হত আজ তারাই খুন হয়ে যাচ্ছে আরও নৃশংস খুনির হাতে। আসলে এর পিছনে আছেন প্রকৃতির কারসাজি। সমুদ্রের জীববৈচিত্র,খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুতন্ত্রকে বাঁচাতে এই খুনোখুনি ছাড়া তার হাতে আর অন্য কোনও সমাধান নেই যে।

```