
শেষ আপডেট: 20 April 2023 08:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেডেন্টারি লাইফস্টাইলের ইঁদুরদৌড় আর মদ্যপানে একেবারে ডুবে যাওয়া—শরীরের উপর তো আর কম অত্যাচার হয় না। কম ঘুম, নামমাত্র খাওয়া, কখনও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা আবার কখনও দু’টো মিলের মধ্যে লম্বা সময়ের ব্যবধান, লিভারকে (Fatty Liver) নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছে। তার উপর সপ্তাহান্তে ছোট-বড় পার্টি, গাদা গাদা তেল মশলাদার খাবার আর আকণ্ঠ মদ্যপান তো রয়েছেই। খাবারের বোঝা থেকে লিভার যতটুকু শ্বাস নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে, উল্টোপাল্টা খাওয়ার অভ্যাস ততই তার অবস্থা বিগড়ে দেয়। আজ বিশ্ব লিভার দিবস (World Liver Day)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভারে রোগ বাসা বাঁধছে কিনা, বা আপনার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা আছে কিনা তা বোঝা যাবে ত্বকের কিছু লক্ষণ দেখে।

লিভারের মেদ বা ফ্যাটি লিভার নিয়েই বেশি ভুগছেন মানুষ। এই রোগ চুপিসাড়ে আসে। কিন্তু শরীরকে নাজেহাল করে ছাড়ে। ভারত ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ফ্যাটি লিভারের রোগ এখন সবচেয়ে বেশি। লিভারে মেদ জমতে পারে নানা কারণে। আসলে ফ্যাটি লিভার হল ‘লাইফস্টাইল ডিজিজ।’ অপুষ্টিকর তেল-মশলা-চর্বি দেওয়া খাবার খাওয়ার যদি অভ্যাস তৈরি হয়ে যায় তাহলে খাবারের সঙ্গে স্যাচুরেটেড ফ্যাট আর ট্রান্স ফ্যাট ঢুকতে থাকে শরীরে। চর্বির স্তর জমতে থাকে লিভারে। আরও একটা কারণ হল অ্যালকোহল।
লিভার যতটা ফ্যাট তৈরি করেছে আর যতটা খরচ করেছে তার মধ্যে যদি ভারসাম্য না থাকে তাহলে অতিরিক্ত ফ্যাট জাঁকিয়ে বসে লিভারে। রক্তের মাধ্যমে যা পেশিতে গিয়ে পৌঁছয়। এই ফ্যাটি লিভার হল জটিল লিভারের অসুখের প্রথম ধাপ। শুরুতে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে সারানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে, এটাই হল বিপদসঙ্কেত! এর পরবর্তী ধাপ ফাইব্রোসিস এবং অন্তিম পরিণতি সিরোসিস। লিভার ধ্বংসের শুরু হয় এই সিরোসিস থেকেই।

মুখ ফুলে যেতে পারে
ঘাড়ের নীচের দিকের অংশ কালচে হতে পারে
মুখের ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে
ফ্যাটি লিভারের আরেকটি বড় সমস্যা হল র্যাশ, চুলকানি। সারা শরীর তো বটেই, এমনকি মুখেও চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ত্বক চুলকাতে পারে
ত্বক হলুদ হয়ে যেতে পারে।
লিভারের কোনও রোগ হলেই প্রথমে ত্বকেই ফুটে ওঠে তার লক্ষণ। যেমন- ত্বক-নখ হলুদ হয়ে যাওয়া, চুলকানি- র্যাশ ইত্যাদি। যখন দেহে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। জন্ডিসও ফ্যাটি লিভারের অন্যতম উপসর্গ।