
শেষ আপডেট: 6 July 2023 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাও খাও বুঁদ হয়ে ডুবে যাও…
মদ খান সে ঠিক আছে, কিন্তু রোজ রোজ একেবারে গভীরভাবে মদে ডুবে বুঁদ হয়ে যান কি? তাহলেই বিপদ। প্রতিদিন মদ খেলে তার প্রভাব কীভাবে শরীরে পড়বে তা পরীক্ষা করে দেখে আঁতকে উঠেছেন চিকিৎসক-বিজ্ঞানীরা। ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন’ মেডিক্যাল জার্নালে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট অ্যান্ড সার্জিকাল গ্যাসট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের ডাক্তার মনোজ গুপ্ত বলেছেন, ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস (Alcohol Impact), বদহজম, পেটে ব্যথা, ঘন ঘন পেটের সমস্যা, প্যানক্রিয়াটাইটিস এমনকী ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ঝুঁকিও বাড়বে প্রতিদিন বেহেড হয়ে মদ খেলে।
ডা. মনোজ গুপ্ত বলছেন, দু’ঘণ্টায় পাঁচ পেগ! এই অনুপাতে মদ খেলে মৃত্যুঘণ্টা বাজতে পারে যে কোনও মানুষের। এর জন্য হৃদরোগী হওয়ার দরকার নেই। মেয়েদের ক্ষেত্রে অনুপাতটা আরও কম। দু’ঘণ্টায় চার পেগ। অনেকে বলেন, সীমিত পরিমাণে মদ খেলে নাকি রক্তে ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, যা হার্টের পক্ষে ভাল। তবে এই মতটাও বিতর্কিত। রোজ রোজ প্রচুর পরিমাণে মদ্যপান করলে হার্টের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে বাধ্য। অনেকের মদ খেলে আবার রক্তচাপ বেড়ে যায়। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

এখনকার সময়ে কমবয়সিরা কথায় কথায় নেশা করে। একদিকে সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য, অন্যদিকে মদ দুই চলছে সমান তালে। বন্ধুদের আড্ডা হোক বা রাতের পার্টি, মদ মাস্ট। আর একটু আধটু নয়, একেবারে আকণ্ঠ মদ না খেলে আসরই নাকি জমে না।
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, এখন কমবয়সেই হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। গত কয়েক মাসে এমন উদাহরণ অজস্র দেখা গেছে। তাছাড়া ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। অতিরিক্ত অ্যালকোহলের কারণে লিভার সিরোসিস, অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার এমনকী অ্যাকিউট অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়াদের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে অনেক বেড়েছে।
নিরামিষেও ভরপুর প্রোটিন-ভিটামিন, বিশ্বজুড়ে কদর বাড়ছে ভেজিটেরিয়ান ডায়েটের
করোনার সময়েই দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন কালে দেখা গিয়েছিল, দীর্ঘ সময় ধরে পারস্পরিক দূরত্ব, মেলামেশা বন্ধ তার উপরে করোনার আতঙ্ক, সব মিলিয়ে মানসিক চাপ বাড়ছিল অনেকটাই। স্ট্রেস এবং অবসাদের কারণেই নেশার মাত্রা বেড়ে গেছে। অ্যালকোহল রিলেটেড লিভার ডিজিজ (ARLD)-এ আক্রান্ত হওয়াদের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে।

গ্যাসট্রোএন্টেরোলজিস্টরা বলছেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে, লিভারে মেদ জমতে থাকে। এটা রোগের প্রাথমিক পর্যায়। ক্রমশই তা বিরাট আকার ধারণ করে। যার থেকে অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস এবং অন্তিম পরিণতি লিভার সিরোসিস। আমরা রোজ যে খাবার খাই তার থেকে পুষ্টিরস ছেঁকে নিয়ে বর্জ্য টক্সিনকে বার করে দেওয়াই লিভারের কাজ। অ্যালকোহল সেই টক্সিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একটা সময় লিভার আর ছাঁকনির কাজ করতে পারে না, ফলে টক্সিন জমতে থাকে এবং লিভারে মেদ বাড়তে থাকে। লিভার ফুলতে শুরু করে দেয়, ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ তৈরি হয়। একে বলে অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। পরের ধাপ ফাইব্রোসিস। এই অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এএফএলডি)-এর চতুর্থ পর্যায় হল লিভার সিরোসিস বা লিভার ফেলিওর। এআরএলডি-র আরও একটা পর্যায় হল অ্যাকিউট অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস। জ্বালাপোড়ার মতো যন্ত্রণা হয় শরীরে। কোষে সিস্ট জমতে থাকে। অনেক সময় হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা বা লিভার ক্যানসারও দেখা দেয়।