
শেষ আপডেট: 27 December 2018 18:30
ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, মাইক্রোনিডিলিং আসলে ত্বকের একরকম সার্জারি। বিউটিফেকশনও বলা যায়। ডেড সেল সরিয়ে চকচকে ত্বক পেতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন ডার্মাটোলজিস্টরা। মাইক্রোনিডিল পেনের মতো দেখতে একরকমের যন্ত্র। যার মুখে লাগানো থাকে অসংখ্য সূক্ষ পিন। ব্যাটারি বা ইলেকট্রিকে চলে মাইক্রোনিডিল। গোটা ত্বকেই হালকা করে ঘোরানো হয় পিনগুলি। ফলে ত্বক সামান্য ফেটে গর্ত তৈরি হয়। ভাববেন না, তাতে খুব যন্ত্রণা হয় বা রক্ত বার হয়। একেবারেই না। মাইক্রোনিডিলিং থেরাপির মূল উদ্দেশ্য হল ত্বকের কোলাজেন তৈরি। ছোট ছোট গর্তমুখ গুলোতে আপনা থেকেই কোলাজেন তৈরি হয়। মাইক্রোনিডিলিং-এর সময় ত্বকের মরা কোষ বাইরে বেরিয়ে আসে। আবার নতুন করে ত্বকের কোষ তৈরি হয়। চামড়া টানটান দেখায়। ত্বকের ঔজ্জ্বল্যও বাড়ে।
চর্ম বিশেষজ্ঞেরা বলেন, মাইক্রোনিডিলিং শেষ হওয়ার পর অনেকেই মনে করেন ত্বকে গর্ত থেকে যাবে। তার জন্য রেটিনয়েক অ্যাসিড ব্যবহার করে চিকিৎসকরা। বিশেষ মলমও লাগানো হয়। যাতে ত্বকে কোনওরকম ছিদ্র বা স্কার না বোঝা যায়।
এই কালচে এবং কুঁচকে যাওয়া ত্বককেই টানটান করে মাইক্রোনিডিলিং। চামড়াকে টানটান করে ধরে রাখতে সাহায্য করে কোলাজেন নামক একটি বিশেষ প্রোটিন। বয়স বাড়লে যেটির অভাব দেখা দেয়। মাইক্রোনিডিলিং-এর মাধ্যমে ত্বকে যে সূক্ষ ছিত্র বা গর্ত তৈরি হয় সেগুলো ভরাট করে এই কোলাজেন। ফলে ত্বকের কোষও নতুন করে তার প্রোটিন ফিরে পায়।
তবে বলিরেখার সমস্যা শুধু বয়স বাড়লেই হয় তা নয়, বর্তমান প্রজন্ম এতটাই মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটারে মজে থাকে যে ত্বকের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। রাত জেগে স্মার্টফোন, ল্যাপটপে চোখ মারাত্মক ক্ষতি করে ত্বকের। ওই সব যন্ত্রের নীলচে আলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মতোই ত্বকে কালচে ছোপ ফেলতে পারে। তাতে ত্বকের স্থিতিস্থাপক কোষ (ইলাস্টিক টিস্যু) নষ্ট হয়। অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়ে মুখে। ত্বককে পুনরায় জেল্লাদার করতে মাইক্রোনিডিলিং সেখানে অনেক সহজ পদ্ধতি।
মাইক্রোনিডিলিং মূল মুখের ত্বকে ব্যবহার করা হলেও, শরীরে যে কোনও অংশের স্কার বা প্রেগন্যান্সির পরবর্তী স্ট্রেচ মার্স দূর করতেও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। অনেকেই মাইক্রোনিডিলিং-এর পর ত্বকে হালকা ব্যথা অনুভব করেন। সঠিক ভাবে প্রয়োগ না করলে ত্বকে লালচে দাগ বা র্যাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সবসময় ভালো জায়গা থেকে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই মাইক্রোনিডিলিং করা উচিত। কারণ, অনেক জায়গাতেই হাইজিন না মেনে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। পিনের সূক্ষ মুখে কোষ জমে থাকে। যা পরবর্তীতে যার উপর প্রয়োগ করা হবে তার ত্বকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
মাইক্রোনিডিলিং-এর পর ত্বকের সঠিক পরিচর্চা দরকার। দিনের আলোয় বার হলে সান প্রোটেকশন লোশন অবশ্যই দরকার। কোনও রকম মেকআপ ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
প্রেগন্যান্সির সময় বা ত্বকের কোনও রোগ বা সংক্রমণ থাকলে মাইক্রোনিডিলিং করানোর আগে ডার্মাটোলডিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাধারণত ৩০ মিনিট ধরে তিন থেকে চারটে সিটিংএ মাইক্রোনিডিলিং করা হয়। খরচও লেসার ট্রিটমেন্টের থেকে অনেক কম।