
শেষ আপডেট: 9 October 2018 18:30
হজমশক্তি বাড়াতে এই পানীয়ের তুলনা নেই। বিপাকক্রিয়াকেও দ্রুততর করে জিরা। শরীরে এনার্জি যোগায়। তবে সকালে খাবার জন্য বাজার চলতি জলজিড়া নয়, বরং বাড়িতেই সাধারণ ভাবে বানাতে হবে এই মিশ্রণ। তার জন্য এক কাপ জলে এক চামচ গোটা জিড়ে ফেলে দিন। এর পর এই মিশ্রণকে ভাল করে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে রোজ সকালে খালি পেটে খান। উপকার পাবেন কিছুদিনের মধ্যেই।
জোয়ানের দানায় রয়েছে থাইমল, যা একটি essential oil। এই থাইমল হজম শক্তি বাড়ায়, অ্যাসিডিটি কমায়। সারা দিনের খাবারের পর শরীরে যে টক্সিন জমা হয়, সেগুলি ছেঁকে বাইরে বার করে দেয়। এক কাপ জলে এক চামচ জোয়ান মিশিয়ে এই মিশ্রণটিকে ভাল করে ফোটাতে হবে। তার পর ঠাণ্ডা করে একটু একটু করে খান। এই পানীয় পেট ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে।
নাম শুনে যদি চমকে যান তাহলে বলি এটি অত্যন্ত উপকারি একটি পানীয়। নানা রকম ভেষজ উপাদান বা ফলের মিশ্রণে তৈরি হয় এটি। যেমন, এই মিশ্রণে থাকতে পারে অ্যাপল সিডার ভিনিগার, শশা, লেবু বা কমলা। অন্যান্য উপকরণও মেশানো যেতে পারে। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়, ভিনিগার হজমে সাহায্য করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে ও ওজন কমায়। শশা শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে, ভেষজ উপাদানের মধ্যে তুলসী বা মিন্টের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা জীবানু নাশ করে।
একটি বড় জারের মধ্যে জল নিয়ে তাতে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে (গোটা ফল, রস করে নয়) ২-৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। সময় বাঁচাতে সারা রাত রেখে দিতে পারেন। সকালে ভাল করে ছেঁকে জলটা খালি পেটে খেতে হবে।
সকালে খালি পেটে নারকেলের জল খুবই উপকারি। এটিকে শক্তিবর্ধক পানীয়ও বলা হয়। কারণ নারকেলের জলে রয়েছে লরিক অ্যাসিড যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে। এমনকি ওজন কমাতেও সাহায্য করে। নানা রকম ভিটামিন ও খনিজ উপাদান বিশেষত সোডিয়াম ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ নারকেলের জল শরীরে নুনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
পালং শাক, টোম্যাটো বা লাউ যে কোনও সব্জির রসেই থাকে প্রচুর ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষত সবুজ শাকপাতা বা সব্জির রস সকালে খালি পেটে খেলে শরীর অনেক বেশি ডিটক্স থাকে। বাছুন এমন সব্জি যাতে রয়েছে আয়রন কারণ ভারতের বেশিরভাগ মহিলাই এখন রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন। সব্জি ছোট ছোট করে কাটুন। শাক পাতা হলে ভাল করে গরম জলে ধুয়ে নিতে হবে। মিক্সারে জল বা নারকেলের জলের সঙ্গে পেস্ট বানিয়ে খেতে পারেন। স্বাদ বাড়াতে সামান্য লেবুর রসও মিশিয়ে নিতে পারেন।
শরীরকে চাঙ্গা রাখতে গোজি বেরির কোন তুলনাই নেই। পুষ্টিকর এই ফলে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেলস, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আট রকম অ্যামাইনো অ্যাসিড। প্রতিদিন সকালে এই ফলের রস খেলে ক্লান্তিভাব চলে যায়, মানসিক অবসাদও অনেক কমে। এক কাপ গোজি বেরি মিক্সারে ভাল করে ব্লেন্ড করে রস বার করে নিতে হবে। এর সঙ্গে ৬০০ মিলিলিটার নারকেলের জল মিশিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে রেখে দিন। সকালে খালি পেটে নিয়মিত এই জুস খেলে হজমও ভাল হবে আবার ওজনও কমবে।
ডায়েটের জন্য যারা আয়ুর্বেদিক উপাদানে ভরসা রাখেন তাদের জন্য অ্যালোভেরা জুস একদম পারফেক্ট। পাকস্থলীকে সুস্থ রাখতে এর কোনও তুলনাই নেই। হজম শক্তি বাড়ায়, গ্যাস ও অ্যাসিডিটি থেকে রেহাই দেয়, পাশাপাশি এনার্জিও যোগায়।
অ্যালোভেরা থেকে সাদা জেলটা বার করে নিয়ে ব্লেন্ডারে ভাল করে মিশিয়ে নিন। তার সঙ্গে তিন কাপ জল দিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে সকালে খালি পেটে খান, উপকার পাবেনই।
চা ছাড়া যারা সকালটা শুরু করতে পারেন না তাদের জন্য রইল আদা চায়ের টিপস। আদায় রয়েছে জিঞ্জেরল যার অনেক রকম গুণ। তাই নানা রোগের উপশমে লাগে আদা। তা ছাড়া পেশীর ব্যথা কমাতেও এর জুরি নেই। আদা ভাল করে ছাড়িয়ে পেস্ট করে এক কাপ জলে দিয়ে ফোটান। এর সঙ্গে মিশিয়ে দিন লেবুর রস। তৈরি হয়ে গেল আদা চা। অনেকে এই মিশ্রণে তুলসী মিশিয়েও খান।
টোম্যাটোয় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তা যেমন ত্বকের জন্য ভাল, তেমনি পুষ্টিকর ডায়েট। টোম্যাটোতে ক্যালরির মাত্রা খুব কম থাকে, পাশাপাশি থাকে অ্যামাইনো অ্যাসিড লাইকোপিন যা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন টোম্যাটোর জুস বানিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকেও রেহাই মেলে। এর ফাইবার অনেকক্ষণ অবধি পেট ভর্তি রাখে, ফলে বারে বারে খাওয়ার প্রবণতা কমে। নিউট্রিশনিস্টদের মতে টোম্যাটোর কারনিটিন ৩০ শতাংশ অবধি ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে।
টোম্যাটো ভালভাবে পেস্ট করে নিন। দু’কাপ জলে লেবুর রস, নুন আর টোম্যাটোর পেস্ট মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ভাল করে মিক্স করে নিন। প্রতিদিন নিয়ম করে এই জুস খান আর তফাৎ দেখুন।