Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটো

মুখে রক্ত লেপে মড়া সেজে পড়েছিলেন, তাতেই বাঁচে প্রাণ! হামাস ছোঁয়নি ইজরায়েলি তরুণীকে 

ফেস্টিভ্যালে বারটেন্ডার হিসাবে কাজ করছিলেন তিনি। হামাস বাহিনীর খপ্পরে পড়েও রক্ষা পেয়েছিলেন তরুণী। কীভাবে, সেই গল্পই শুনিয়েছেন তিনি।

মুখে রক্ত লেপে মড়া সেজে পড়েছিলেন, তাতেই বাঁচে প্রাণ! হামাস ছোঁয়নি ইজরায়েলি তরুণীকে 

শেষ আপডেট: 8 November 2023 12:49

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক ১ মাস আগের কথা। ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইজরায়েলের কিবুতজ রেইমের কাছে সঙ্গীত উৎসবে হামলা চালিয়েছিল হামাস বাহিনী। প্রথমে রকেট হামলা, তারপর সশরীরে হাজির হয়ে এলোপাথাড়ি গুলি। সেদিনের সেই ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৪০০ ইজরায়েলি। তবে বরাতজোরে কেউ কেউ বেঁচে গিয়েছিলেন। তাঁদেরই একজন মে হায়াৎ। ওই ফেস্টিভ্যালে বারটেন্ডার হিসাবে কাজ করছিলেন তিনি। হামাস বাহিনীর খপ্পরে পড়েও রক্ষা পেয়েছিলেন তরুণী। কীভাবে, সেই গল্পই শুনিয়েছেন তিনি। ভয়াবহ সেই হামলার ১ মাস পর ওই সঙ্গীত উৎসবের জায়গায় আবারও গিয়ে হাজির হয়েছিলেন মে। তাতেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল সেই সন্ধ্যার হাড়হিম স্মৃতি। ১ মাস পর হু হু করে কেঁদে ফেলেন মে। জানান, সেদিন সেই ভালুক আর মৃত সেজে পড়ে থাকা মানুষের গল্প মনে পরে গিয়েছিল তাঁর। নিশ্চিত মৃত্যু এড়াতে মড়া সেজে মৃতদেহ থেকে রক্ত নিয়ে মুখে মেখে দমবন্ধ করে পড়েছিলেন তিনি। 

৩০ বছরের মে-কে সেদিন উদ্ধার করেছিল ইজরায়েলি সেনা। ঘটনার পর চিকিৎসা করিয়ে তাঁকে বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু ৭ অক্টোবরের সেই সন্ধ্যার আতঙ্ক কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না তিনি। এমনকী, ট্রমায় কান্না বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। কথা বলছেন, খাচ্ছেন, হাঁটছেন, কিন্তু সারাক্ষণ তাড়া করে বেড়াচ্ছে অভিশপ্ত সেই রাতের স্মৃতি। তাই ঠিক করেছিলেন, আবার যাবেন ঘটনাস্থলে। স্মৃতির দগদগে ঘায়ে আবার খোঁচা লাগলে তবেই হয়তো গলগল করে বেরিয়ে আসবে যন্ত্রণা, দুঃসহ স্মৃতি থেকে মুক্তি হবে তাঁর। 

সোমবার ফের ওই এলাকায় গিয়েছিলেন তরুণী। এক মাস আগের মতো সেখানে তখন কোনও মৃতদেহ নেই, ধ্বংস্তূপের বেশিরভাগটাই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খোলা মাঠের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েছিলেন মে। ঘটনার দিন প্রাণে বাঁচতে একটা গর্তের ভিতর লুকিয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেটাও এখন আর নেই। এদিন যতবার কোনও জোরে আওয়াজ শুনছিলেন, আতঙ্কে লাফিয়ে উঠছিলেন। তাঁকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন তাঁরই বন্ধুর ভাই, যে বন্ধু প্রাণ হারিয়েছিলেন সেদিনের হামলায়। 

সেদিন সন্ধ্যা তখন ৬.৩০-৭টা হবে। গাজা সীমান্তের সেই শহরে প্রথমে একের পর এক আছড়ে পড়তে শুরু করে হামাসের রকেট। তারপরেই কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ মোটরবাইকে চেপে ওই সঙ্গীত উৎসবে ঢুকে আসে হামাসের হামলাকারীরা। কী ঘটেছে বুঝতে পারার পরেই একটি গর্তে লুকিয়ে পড়েছিলেন মে এবং আর এক যুবক। কিন্তু সেখান থেকেও তাঁদের টেনে বের করে হামাস। "আমার মনে হয়েছিল ওরা আমাকে ধর্ষণ করবে। আমি তখন শুধু ঈশ্বরকে ডাকছি, যে, সবকিছুই তোমার হাতে, আমার আর কিছুই করার নেই," জানিয়েছেন মে। 

তাঁর সঙ্গের যুবককে মের চোখের সামনেই গুলি করে মেরে ফেলে হামলাকারীরা। কিন্তু মে-কে নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঝামেলা শুরু হয়। কেউ কেউ ছিল তাঁকে শেষ করে দেওয়ার পক্ষে। আবার হামাস বাহিনীরই কেউ কেউ তরুণীকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষপাতী ছিল। এই ঝামেলার মাঝেই পালিয়ে যান মে। লুকিয়ে পড়েন স্টেজের তলায়। সেখানে তখন সার বেঁধে উৎসবের শ্রোতাদের দেহ পড়ে রয়েছে। তার মধ্যেই আবার ফিরে আসে হামাস। যাতে কেউ না বেঁচে থাকে, তা নিশ্চিত করতে ফের এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে তারা। 

তখনই ভালুকের গল্প মাথায় এসেছিল মের। বেশি কিছু না ভেবে উপুড় হয়ে সেখানেই শুয়ে পড়েন তিনি। পাশে পড়ে ছিল একটি মৃতদেহ। তার মাথায় গুলি করেছিল হামাস। সেখান থেকেই টাটকা রক্ত নিয়ে তরুণী মেখে নেন মুখে, গায়ে। মড়া সেজে শ্বাস বন্ধ করে পড়ে ছিলেন সেখানেই। 

কতক্ষণ তিনি ওখানেই পড়ে ছিলেন, হিসেব নেই। হয়তো কয়েক ঘণ্টা হবে। তারপর সেখানে হাজির হয় ইজরায়েলি সেনা। "যখন আমি শুনলাম সেনাবাহিনী আসছে... সেটা বুঝতে এবং বিশ্বাস করতে আমার কয়েক মিনিট সময় লেগে গিয়েছিল। তারপরেই আমি হেল্প হেল্প বলে চিৎকার করতে শুরু করি। তখন ওরা এসে আমাকে উদ্ধার করে," জানিয়েছেন তরুণী। 

৭ অক্টোবর ইজরালেই হামাসের সেই হামলার পরেই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইজরায়েলি বাহিনী। তাঁদের সেই প্রত্যাঘাতে গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক হল শিশু এবং মহিলা। ইজরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামাসকে ধ্বংস না করে তারা থামবে না।


```