দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি বৈঠকে আফগানিস্তানে (afghanistan) সন্ত্রাসবাদ (terrorism) মোকাবিলায় গুরুত্বের কথা শোনা গেল নরেন্দ্র মোদী, জো বাইডেন-দুজনের মুখেই (modi-biden)। বৈঠক শেষে ভারত-মার্কিন নেতাদের যৌথ বিবৃতিতে উভয়েই তালিবানকে (taliban) আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে, নারী, শিশু, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলি সহ সব আফগানের মানবাধিকারের (human rights) মর্যাদা দেওয়ার ডাক দিলেন। কাবুলের নয়া শাসকদের তাঁরা এটাও সুনিশ্চিত করতে বললেন যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ দেওয়া চলবে না, কোনও দেশের ওপর হামলা বা হুমকি দিতে তার মাটিকে ব্যবহার করা যাবে না।
আরও পড়ুন---নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে ভারতকে সাহায্য করবে আমেরিকা, জানালেন বাইডেন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, দুজনেই স্পষ্ট বলেছেন, তালিবানকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ২৫৯৩ প্রস্তাব (২০২১) মেনে চলতে হবে, যাতে বলা হয়েছে, আফগান ভূখন্ডকে ফের কখনও অন্য কোনও দেশকে হুমকি দিতে বা হামলা চালাতে বা সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ বা আশ্রয় দিতে বা কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা করতে বা তাতে অর্থ ঢালায় ব্যবহার করা যাবে না।
আফগানিস্তানের ওপর ২৫৯৩ প্রস্তাবটি গত আগস্টে ১৫টি দেশের মঞ্চে ভারতের পৌরহিত্যেই গৃহীত হয়েছিল। প্রস্তাবে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গুরুত্বের কথা ফের বলা হয়েছিল। ১২৬৭ প্রস্তাবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও সংগঠনগুলির মোকাবিলার কথাও ছিল। তালিবানের প্রাসঙ্গিক প্রতিশ্রুতিগুলির কথাও ছিল ২৫৯৩ প্রস্তাবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী তালিবানকে এইসব ও অন্য যাবতীয় প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে বলেছেন। আফগানিস্তান থেকে আফগান ও সব বিদেশি নাগরিকের নিরাপদ, সুরক্ষিত, শৃঙ্খলিত পদ্ধতিতে বেরিয়ে যেতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও আছে।
১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে প্রায় পুরো আফগানিস্তান কব্জা করার পর তালিবান ৩৩ কট্টরপন্থী সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছে, যাতে একজন মহিলা নেই, রাখা হয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা সন্ত্রাসবাদীদের। ঘটনাচক্রে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তালিবান আফগানিস্তান শাসন করে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা আফগানিস্তানকে যাবতীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রয়াসেও গুরুত্ব দিয়ে তালিবানকে বলেছেন, তারা যেন রাষ্ট্রপুঞ্জ, তার বিশেষ এজেন্সিগুলিকে সরাসরি, নিরাপদ, বাধাহীন প্রবেশের অনুমতি দেয়। মানবিক ত্রাণসাহায্য দেওয়ায় জড়িত সব পক্ষকে সাহায্য করে। দেশের ভিতরে উত্খাত হওয়া লোকজনকেও সম্মান করে। আফগান জনগণের উন্নয়ন, আর্থিক সুবিধায় দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতার উল্লেখ করে তাঁরা সব আফগানের শান্তিপূর্ণ, সার্বিক ভবিষ্যতের লক্ষ্যে তাঁরা শরিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে কাজ করার কথাও বলেছেন।
চলতি মাসের প্রথমে রাষ্ট্রপুঞ্জে আফগানিস্তানের দূত তথা স্থায়ী প্রতিনিধি গুলাম ইসাকজাই জানান, তালিবান ঘোষিত সরকার আর যা-ই হোক, সার্বিক নয়, মহিলা ও সংখ্যালঘুরা নেই, এমন কোনও শাসন কাঠামোকে মানবে না আফগান জনতা। তিনি আফগানিস্তানে ইসলামি আমিরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রত্যাখ্যান করতেও রাষ্ট্রপুঞ্জকে আহ্বান করেন।