
শেষ আপডেট: 17 October 2023 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পানীয় জল-বিদ্যুৎ বন্ধ করেছে ইজরায়েল। একফোঁটা জলের জন্য তীব্র হাহাকার গাজায়। যেখানে সামান্য পরিশ্রুত জল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই লম্বা লাইন। চেষ্টা মেটাতে কাতর শিশুরা নোংরা নোনা জলই খেয়ে ফেলছে। ফলে ভয়ঙ্কর ডিহাইড্রেশন দেখা দিয়েছে গাজার বাসিন্দাদের মধ্যে।
একদিকে লাগাতার বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ভিটেমাটি ছেড়ে যে যেদিকে পারছেন পালাচ্ছেন। সহায় সম্বলহীন হয়ে যাঁরা রয়ে যাচ্ছেন তাঁরা খিদে-তেষ্টায় কাতর। বিদ্যুৎহীন গাজায় আহতদের চিকিৎসা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। পানীয় জলে মিশছে অস্ত্রের বিষ। সব মিলিয়ে গাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। বিদ্যুৎ ছাড়া ধুঁকতে শুরু করেছে গাজার হাসপাতালগুলি। উপচে পড়ছে মর্গ। এই সঙ্কট কী ভাবে কাটবে তা নিয়ে চিন্তায় আপৎকালীন দফতর। জায়গার অভাবে শিশুদের মরদেহ রাখা হচ্ছে আইসক্রিম ফ্রিজারে।
প্যালেস্তাইনে নিযুক্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের এজেন্সির প্রধান ফিলিপ ল্যাজারিনি বলছেন, গাজার শিশুরা জল পাচ্ছে না। পানীয় জলের অভাবে নোনা জল খেয়ে ফেলছে। ফলে ডিহাইড্রেশনে মৃতপ্রায় বহু শিশু। গাজা জুড়ে এবার ভয়ঙ্কর মহামারী ছড়াতে পারে।
সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার বাসিন্দারা দিনে মাত্র চার ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পেতেন। এখন তাও পাওয়া যাচ্ছে না। বিদুৎ বন্ধ হাসপাতাল এবং জল পরিশোধনাগারে। ভরসা বলতে থাকবে জেনারেটর। কিন্তু জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামে তা-ও বেশি ক্ষণ চালানো সম্ভব নয়। পরিস্রুত পানীয় জলের অভাবে নানা ধরনের জলবাহিত রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে প্যালেস্তাইন স্বাস্থ্য দফতর।
শুক্রবারই গাজা ভূখণ্ডের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছিল ইজরায়েল যে বাঁচতে গেলে ছাড়তে হবে ঘর-বাড়ি। ২২ লক্ষ গাজাবাসীর অর্ধেককেই গাজার দক্ষিণাংশে সরে যেতে বলা হয়েছিল। এরপর রবিবার আরও কঠোর নির্দেশ দেয় ইজরায়েলি সেনা। মাত্র ৩ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে দক্ষিণ গাজা থেকেও বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়। তারপরই স্থলপথে গাজায় অভিযান চালানোর তোড়জোড় শুরু করে ইজরায়েল। যুদ্ধে এখনও অবধি প্রায় আড়াই হাজার গাজাবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। অন্তত ৭০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে আছে যারা তারা ঘোর সঙ্কটে। এর মধ্যেই জলের অভাবে ডিহাইড্রেশন ও অসিখবিসুখে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।