
শেষ আপডেট: 27 November 2023 08:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শর্ত ছিল পণবন্দিদের মুক্তি দিলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে। সেই কতা রেখেছে প্যালেস্তিনীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। গত দু’দিনে মোট ১৭ জন পণবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রবিবার তৃতীয় দফায় ১৩ জন ইজরায়েলি নাগরিক ও ৪ জন বিদেশি নাগরিককে মুক্তি দেয় হামাস। মুক্তি পাওয়া ইজরায়েলিদের মধ্যে ছিল চার বছরের সেই মার্কিন শিশুও যার বাবা-মাকে বাচ্চাটির চোখের সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। শিশুটির মুক্তির খবর শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
ইজরায়েল সেনার তরফে জানানো হয়েছে, ৪ থেকে ৮৪ বছর বয়সী মোট ১৭জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। তাদের প্রথমে রেড ক্রস অর্গানাইজেশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারপর মিশরের রাখা ক্রসিং দিয়ে পণবন্দিদের ইজরায়েলে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, মোট ১৭ জন পণবন্দিকে মুক্ত করেছে হামাস, যাদের মধ্যে ১৩ জন ইজরায়েলের নাগরিক বাকি ৪ জন বিদেশি নাগরিক। বিদেশিদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাঁদের পরিবারকে খবর দেওয়া হবে।
গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামলা চালায় হামাস। তখনই প্রায় ২৪০ জন নাগরিক পণবন্দি হয়েছিলেন হামাস গোষ্ঠীর হাতে। ধীরে ধীরে সংখ্যাটা বেড়ে হয় ১২০০। তাঁদের মুক্তির দেওয়ার বিনিময়ে সাময়িকভাবে যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাবে রাজি হয় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকার। পাশাপাশি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইজরায়েলের হাতে বন্দি প্যালেস্তানীয় শিশু ও নারীদেরও মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। দুই পক্ষের এই সমঝোতায় মধ্যস্থতা করছে কাতার।
ইজরায়েল এবং হামাসের যুদ্ধে গত তিন দিন ধরে ‘বিরতি’ চলছে। এই সময়ের মধ্যে ইজ়রায়েল এবং হামাস উভয়পক্ষই কিছু কিছু করে বন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে। শর্ত অনুযায়ী, মহিলা ও শিশুদেরই আগে মুক্তি দিচ্ছে হামাস। মুক্তি পাওয়া বন্দিদের মধ্যে ১৩ জন ইজরায়েলি মহিলা ও শিশু রয়েছেন। রাশিয়ান-ইজরায়েলি নাগরিকত্বের এক ব্যক্তি ও তিনজন থাইল্যান্ডের নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে হামাস। পাশাপাশি ইজরায়েল রবিবার ৩৯ জন প্যালেস্টাইনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে।
এদিকে, চারদিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হতে চলায় ফের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছে হামাস। আরও বেশি সংখ্যক পণবন্দিকে মুক্ত করলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে ইজরায়েল সরকারও।