
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 February 2025 19:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকেই মনে করেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমেই সহজে ওজন কমানো সম্ভব। তবে, যদি দেখেন দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমছে না, তাহলে এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ। পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানিয়েছেন, কী কী ভুলের কারণে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পরও ওজন কমছে না। জেনে নিন আপনিও।
ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, 'স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও ওজন কমছে না? আমি এমনটা অনেকের ক্ষেত্রেই দেখেছি। অনেক সময় সমস্যা খাবারের ধরণে নয় বরং পরিমাণে বা শরীর যেভাবে তা প্রক্রিয়া করে, সেখানেই লুকিয়ে থাকে।'
View this post on Instagram
ওজন কমাতে না পারার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তিনি কয়েকটি উল্লেখ করেন।
১. পরিমাণ ও ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ
অনেক সময় আমরা স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও পরিমাণের দিকে নজর দিই না। পুষ্টিবিদের মতে, 'বাদামি ময়দা, ঘি ইত্যাদি স্বাস্থ্যকর হলেও এগুলোর ক্যালোরি বেশি। অতিরিক্ত খেলে ওজন কমার পরিবর্তে বেড়ে যেতে পারে।'
২. স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়া
অনেকেই বাদাম, চিয়া সিড, অ্যাভোকাডো, আখরোট, কাজু, খেজুর, কিসমিস ও ডার্ক চকলেট বেশি পরিমাণে খান। পুষ্টিবিদের মতে, এগুলো স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত খেলে ওজন কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিতে পারে।
৩. হরমোনজনিত সমস্যা
পুষ্টিবিদ বলছেন, 'অনেকেরই থাইরয়েডে সমস্যা রয়েছে যা রক্ত পরীক্ষায় ধরা না পড়লেও ওজন কমানোর পথে বাধা সৃষ্টি করে।' এই অবস্থাকে সাবক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়, যা মেটাবলিসমে প্রভাব ফেলে।
৪. দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
চাপ বা স্ট্রেস শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অঞ্জলি বলেন, 'যদি স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তাহলে ওজন কমানোও সহজ হবে।'
৫. অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখা
সুস্থ অন্ত্র বা ভাল গাট হেলথ ওজন কমানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, 'সঠিক ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োম থাকলে ওজন কমানো সহজ হয়। যদি কিছুতেই কাজ না হয়, তাহলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং চেষ্টা করুন।'
এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে ওজন কমানো সহজ হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার নয়, বরং তার পরিমাণ, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, হরমোন ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।