
শেষ আপডেট: 22 October 2021 07:11
চট্টোপাধ্যায় বাড়ির কুলদেবতা দামোদর। কুলদেবতাকে গঙ্গাস্নান করিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় মায়ের পাশেই। এবারেও সেই রীতি পালিত হয়েছে, সঙ্গে হয়েছে মায়ের ভোগ রান্নাও। তবে নিজের শ্বশুড়বাড়ির ভোগ রান্নায় হাত লাগাতে পারেননি দেবলীনা। কারণ, পরিবারের নিয়ম, কুলদেবতার দীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত ভোগ রান্না করা যায় না। তাই আর দেবলীনা ভোগের রান্নায় হাত দিতে পারেননি।
পুজো মেটার পরে বিসর্জন পর্ব। বিসর্জনেও অভিনবত্বের ছোঁয়া উত্তম কুমারের বাড়ির পুজোয়। লক্ষ্মী প্রতিমাকে নতুন ভাবে আবার সাজানো হয়ে বিসর্জনের আগে। সে আটপৌরে সাজ দেখার মতো। ভীষণ মিষ্টি সেই রূপমাধুরী। বেনারসী শাড়ি ও সোনার অলঙ্কার খুলিয়ে লাল-সাদা ডুরে ধনেখালি শাড়ি আর অপূর্ব ফুলের সাজে সাজানো হয় মা লক্ষ্মীকে। তাঁতের শাড়ি পরানো হয় বিসর্জনের আগে একদম সাবেকি স্টাইলে।
সোনার গয়নাগুলির মধ্যে আছে উত্তমকুমারের গড়িয়ে দেওয়া অনেক গয়নাও। তাই সেগুলো খুলে রাখা হয় পরম্পরা মেনে। রজনীগন্ধা ফুলের মুকুট, ফুলের অলঙ্কারে সেজে ওঠেন লক্ষ্মী প্রতিমা। খুব সহজ সরল সাজ, অথচ তাতে আছে আন্তরিকতার ছোঁয়া। বাড়ির এয়োস্ত্রী, মেয়ে, বৌরা মা লক্ষ্মীকে প্রদক্ষিণ করেন বরণ শুরুর আগে। তারপর বরণ সারার পরে পানপাতায় মায়ের চোখ মুছিয়ে সিঁদুর, মিষ্টি দেওয়া হয় মাকে। মায়ের কানে কানে বাড়ির মহিলারা বলেন "আসছে বছর আবার এসো মা।"
এর পর চলে বাড়ির বৌ-মেয়েদের সিঁদুরখেলার পর্ব।
বাড়ির মেয়েরা যেমন লালপাড় সাদা শাড়ি পরেন বিসর্জনের দিন, তেমন বাড়ির ছেলেরাও সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি বা ধুতি-পাঞ্জাবি পরেন। সিঁদুর মাখেন ছেলেরাও।
শেষমেষ মাকে বিসর্জন দেওয়া হয় গঙ্গায়। উত্তমকুমার কিন্তু রীতিমতো প্রধান ভূমিকা পালন করতেন এই বিসর্জন পর্বে। তিনি নিজে বিসর্জন ঘাটে যেতেন। এখনও তাঁদের নাতি-নাতনিরা সকলে একই রীতি মেনে চলেছেন। বিসর্জনের পর মিষ্টিমুখ ও শান্তিজল।
এবারেও একই রীতিতে উত্তম কুমারের বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর বিসর্জন পর্ব সারা হল।