ক্রিকেট মহলের ধারণা, পাক বোর্ডের এই পদক্ষেপ এশিয়া কাপে দলের খারাপ পারফরম্যান্সের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।

পাকিস্তান
শেষ আপডেট: 1 October 2025 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের কাছে হারের একদিন পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) তাদের খেলোয়াড়দের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) স্থগিত করেছে। বেশ কিছু পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এবং ক্রীড়া সাংবাদিক ফয়জান লাখানি এই তথ্য জানিয়েছেন। এনওসি স্থগিত করার অর্থ হল জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা আর কোনও বিদেশি টি-টোয়েন্টি বা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে (Playing in foreign T20 leagues) অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
এদিকে, পাকিস্তানি নিউজ পোর্টাল সামান টিভি জানিয়েছে, পিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সৈয়দ সুমেইর আহমেদ খেলোয়াড়দের বিদেশি লিগের পরিবর্তে ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্ত সরাসরি শীর্ষ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের উপর প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদি, মহম্মদ রিজওয়ান, ফাহিম আশরাফ এবং শাদাব খান রয়েছেন, যাঁদের এই বছর অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল ১৫) খেলার কথা ছিল। হারিস রউফ এবং অন্যান্য খেলোয়াড়দেরও আইএলটি২০-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার কথা ছিল।
যদিও এই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলিতে আরও বলা হয়েছে যে, পিসিবি এনওসি স্থগিতের কারণ স্পষ্ট করেনি। তবে ক্রিকেট মহলের ধারণা, পাক বোর্ডের এই পদক্ষেপ এশিয়া কাপে দলের খারাপ পারফরম্যান্সের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। সামান টিভি ছাড়াও, প্রোপাকিস্তানি.পিকে-ও একই খবর প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে এশিয়া কাপের ফাইনাল ছিল একটি রোমাঞ্চকর লড়াই। শেষ ওভারে লক্ষ্য তাড়া করে ভারত পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে পরাজিত করে। এই ম্যাচে কুলদীপ যাদব পাকিস্তানি ব্যাটারদের ধ্বংস করে দেন। এরপর তিলক ভার্মা (৬৯*) এবং শিবম দুবের (৩৩) ইনিংস ভারতকে জয়ের দিকে নিয়ে যায়। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপ খেতাব জিতে নেয়।
২০২৫ সালের এশিয়া কাপে টিম ইন্ডিয়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা তিনটি জয় অর্জন করে। এই পরাজয়ের পর, পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগা, ফাহিম আশরাফ এবং হাসান আলি-সহ সকল খেলোয়াড় লাহোরে ফিরে আসেন। এশিয়া কাপের এই লজ্জাজনক পরাজয়ের ফলে পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করচন, পিসিবির এই পদক্ষেপ ঘরোয়া ক্রিকেট এবং জাতীয় দলের অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত দেয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় সুযোগ, কিন্তু বোর্ডের বার্তা স্পষ্ট, দেশ এবং ঘরোয়া ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আশ্চর্যজনকভাবে, ভারতের কাছে হেরে গেলেই এই ধরনের খবর আসে, তবুও পাকিস্তানি ক্রিকেট কাঠামোর কোনও উন্নতি হয়নি।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। কখনও পিসিবি চেয়ারম্যান, কখনও অধিনায়ক, কখনও কোচ বদলানো হয়। খেলোয়াড়দের প্রতি আস্থা দেখানোর পরিবর্তে, তাঁদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এবার, পাকিস্তানিরা একটি টুর্নামেন্টে টিম ইন্ডিয়ার কাছে তিনবার হেরেছে। এটি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এমনকি পাকিস্তানি ভক্তরা নাকভির অপসারণের দাবিও করেছেন। এনওসি বাতিলের কারণে খেলোয়াড়রা বিদ্রোহ করবেন কি না তা এখন দেখার বিষয়। আগেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা বিদ্রোহ করেছিলেন। এই স্থগিতাদেশ বিশেষ করে তরুণ এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উপর প্রভাব ফেলবে যাঁরা এই ধরনের বিদেশি লিগ খেলে নিজেদের কেরিয়ার এগিয়ে নিতে চান।