
শেষ আপডেট: 2 November 2023 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে ভোট যত এগচ্ছে, ততই অশান্ত হচ্ছে দেশের পরিস্থিতি। বিরোধী দল বিএনপি বৃহস্পতিবার ফের দু’দিনের অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই তাদের তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি শেষ হবে। শুক্র ও শনিবার বাদ দিয়ে ফের রবি ও সোমবার অবরোধ পালন করবে বিরোধী দল।
অন্যদিকে, শাসক দল আওয়ামী লিগও ঘোষণা করেছে, বিরোধী দলের কর্মসূচি চলাকালে দলের কর্মী-সমর্থকেরা পথে থাকবে। বিরোধী ও শাসক দলের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে বিগত এক বছর যাবত পড়শি দেশ অশান্ত। চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন সাধারণ দেশবাসী।
এদিকে, নির্বাচনের প্রস্তুতিও জোরকদমে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবারই দেশটির নির্বাচন কমিশন সর্বদলীয় বৈঠকের কথা জানিয়ে দলগুলিকে চিঠি পাঠিয়েছে। তবে বিএনপির ঢাকার কার্যালয় এখনও বন্ধ। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ অফিসটি ঘিরে রেখেছে। তাছাড়া দলের শীর্ষ নেতাদের অনেককেই গত শনিবারের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে এখন জেলে।
শনিবার বিএনপির ডাকা ঢাকার মহাসমাবেশে তুমুল গোলমাল হয়। পুলিশের সঙ্গে বিরোধী দলের সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এক পুলিশ কর্মী নিহত হন। হামলা হয় প্রধান বিচারপতির বাড়ি এবং একটি হাসপাতালে। তারপর থেকে টানা ধরপাকড় চলছে। গ্রেফতার এড়াতে বিএনপি’র অনেক নেতা গা ঢাকা দিয়েছেন।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশে অবাধ ভোটের পরিবেশ নেই। বিরোধীদের উপর রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন চলছে। মুখ খুলেছে রাষ্ট্রসংঘও। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশে হিংসা বন্ধ হোক। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই সংযত হতে হবে।
তবে গোল বেঁধেছে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনারের বিবৃতি নিয়ে। ওই সংগঠন চলতি পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের দিকেও আঙুল তোলায় বৃহস্পতিবার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রক। তারা এক দীর্ঘ বিবৃতিতে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছে বিএনপির উদ্দেশ্য দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে জনজীবনকে অস্বাভাবিক করে তোলা।
বিএনপি আগেই আভাস দিয়েছিল নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত তারা লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। চলতি অথবা আগামী সপ্তাহের গোড়ায় ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার কথা। প্রধান বিরোধী দল এখনও একদফা দাবিতে অনড়। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন করতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। একমাত্র শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলে তবেই সেটা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী হাসিনা পদত্যাগের দাবি উড়িয়ে বলেছেন, নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর মন্ত্রীরা সরকারি সুযোগ সুবিধা পাবেন না। কিন্তু সরকার যেমন আছে থাকবে। তাঁর কথায়, দেশ সচল রাখার জন্য যেটুকু প্রয়োজন সরকার সেই কাজ ভোট না হওয়া পর্যন্ত করবে।
এদিকে, বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, বিরোধী দলের লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচির জেরে আর্থিক কর্মকাণ্ড থমকে যাওয়ার জোগার হয়েছে। গত তিনদিনের অবরোধে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ চলেইনি বলা চলে। ফলে পণ্য পরিবহণ থমকে আছে। এমনীতেই জিনিসপত্রের চড়া দাম নিয়ে মানুষ জেরবার। তার উপর জোগানের অভাবে দাম আরও চড়েছে।