Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডোর এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটোহরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক

রাষ্ট্রপতিকে অপমান? মোদী, শাহ-সহ একঝাঁক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমালোচনার মুখে রাজ্য, পাল্টা তৃণমূলের‌ও

 রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বঙ্গ সফর ঘিরে ফের একবার কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছল। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে এই অভিযোগে সরব প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রের নেতারা।

রাষ্ট্রপতিকে অপমান? মোদী, শাহ-সহ একঝাঁক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমালোচনার মুখে রাজ্য, পাল্টা তৃণমূলের‌ও

রাষ্ট্রপতির বঙ্গ সফরে বিতর্ক

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 7 March 2026 23:04

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বঙ্গ সফর (Presidenrt Draupadi Murmu Bengal Visit) ঘিরে ফের একবার কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছল। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে এই অভিযোগে সরব প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রের নেতারা। পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হচ্ছেন না শাসক দলের নেতারাও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে কলকাতার ধর্নামঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতির অভিযোগের উত্তর দিয়েছেন, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন রাষ্ট্রপতির সফর সূচি। এছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাগরিকা ঘোষ-সহ দলের অনেকেই রাজ্য সরকারের পাহে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) বাংলায় পোস্ট করে মোদী লিখেছেন, 'এটি লজ্জাজনক এবং অভুতপূর্ব। গণতন্ত্র  এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন  সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী।'

রাষ্ট্রপতি-বিতর্কে পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর অভিযোগ, 'রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আচরণে প্রোটোকল মানা হয়নি এবং এতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।'

এক্স হ্যান্ডেলে অমিত শাহ লেখেন, 'পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার আজ এমন আচরণ করেছে যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অভিযোগ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি এবং সরকারি নিয়মকানুনও মানা হয়নি।'

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এক্সে লিখেছেন, 'মাননীয় রাষ্ট্রপতি যে কষ্ট ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন, তা খুবই বিরল এবং গভীর যন্ত্রণার প্রকাশ। এমন ঘটনা আগে প্রায় দেখা যায়নি। এই নিয়মভঙ্গ আসলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির প্রতি স্পষ্ট অসম্মান।'

পীযুষ গোয়েল লিখেছেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এমন কাজ করেছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং নিচু মানসিকতার পরিচয় দেয়। আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের সময় যেভাবে প্রোটোকল ভাঙা হয়েছে, তা শুধু একটি ছোট ভুল নয়। এতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদাকে আঘাত করা হয়েছে। এই আচরণ থেকে বোঝা যায়, রাজ্য সরকারের জনজাতি সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও অবদানের প্রতি যথেষ্ট সম্মান নেই।'

আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির অভিযোগ, 'পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা সংবিধানের মূল্যবোধ এবং প্রোটোকলকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। সংবিধানের নিয়মকানুনের প্রতি এমন ঔদ্ধত্য ও উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না।'

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতির সফরসূচি-সহ জেলা প্রশাসিবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে এনেছেন।  মোদীর পরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাগরিকা ঘোষ, সুস্মিতা দেব-সহ পাল্টা জবাব দিয়েছেন।

রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সুস্মিতা দেবের কটাক্ষ, 'দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা কেউ যে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে যোগ দিতে পারেন, তা আমার জানা ছিল না। বিজেপি বাংলায় হেরে যাচ্ছে, সেটাই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।'

সাগরিকা ঘোষ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে লিখেছেন, 'নরেন্দ্র মোদীজি আপনি আর কতটা নীচে নামতে পারেন ? দেশের রাষ্ট্রপতির মতো উচ্চ সাংবিধানিক পদকে ব্যবহার করে এত নিচু মানের রাজনীতি করা সত্যিই লজ্জাজনক।'

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাষ্ট্রপতির বঙ্গ সফর এক নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়ে গেল, যার রেশ সম্ভবত ভোটের প্রচারপর্ব পর্যন্ত চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।  


```