
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
শেষ আপডেট: 12 July 2024 06:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে শুক্রবার ইডির মামলায় জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু ইডির গ্রেফতারি বৈধ ছিল কি না সে বিষয়ে বিচারপতি সঞ্জীব খন্না ও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ কোনও রায় দেয়নি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর তরফে দায়ের করা এই মূল মামলাটি ডিভিশন বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠিয়েছে। একজন কর্তব্যরত মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা যায় কিনা, তাঁর সাংবিধানিক রক্ষাকবচ প্রাপ্য কিনা, এই বিষয়গুলি বৃহত্তর বেঞ্চ বিবেচনা করবে।
বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ গত ১৭ মে মামলার শুনানি শেষ করে রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল। শুক্রবার মামলায় রায় ঘোষণার কথা ছিল। শীর্ষ আদালত জামিন মঞ্জুর করলেও গ্রেফতারির বৈধতা সংক্রান্ত প্রশ্নের মীমাংসা করেনি।
মদকাণ্ডে গত ২১ মে ইডি গ্রেফতার করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি তিহাড় জেলে বন্দি। শুক্রবার ইডির মামলায় শীর্ষ কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেও এখনই তিনি ছাড়া পাচ্ছেন না। সিবিআই-ও তাঁকে গ্রেফতার করেছে। সিবিআইয়ের মামলাতেও জামিন মঞ্জুর হলে তবে তিহাড় থেকে মুক্তি মিলতে পারে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর।
কেজরিওয়ালের তরফে তাঁর আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি গ্রেফতারির বৈধতা চালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলায় আদালতে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। তারমধ্যে অন্যতম হল, মদ কেলেঙ্কারির তদন্তে একজন মুখ্যমন্ত্রীকে চূড়ান্ত দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে কেন গ্রেফতার করল ইডি। গ্রেফতার না করেও আদালতে মামলার শুনানি সম্ভব ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর তো গা ঢাকা দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।
অন্যদিকে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসবি রাজু বলেছিলেন, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পাঁচবার তলবি নোটিস উপেক্ষা করেছেন। তাছাড়া, তাঁকে হেফাজতে না নিলে তিনি তথ্যপ্রমাণ লোপাট করে দিতে পারতেন।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় কী রায় দেয় সেদিক ইডি ও কেজরিওয়ালের পাশাপাশি নজর ছিল গোটা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলের। ইডির মামলায় অভিযুক্ত বেশিরভাগেরই বক্তব্য, ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আইনের অপব্যবহার করছে। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের অপর একটি বেঞ্চ গ্রেফতারিতে ইডির সুপ্রিম ক্ষমতা ছেঁটে দিয়েছে। অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা নিয়েও শর্ত আরোপ করেছে শীর্ষ আদালত।
সেই মামলা শোনার জন্য প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় নতুন বেঞ্চ গঠন করবেন। মনে করা হচ্ছে, প্রধান বিচারপতি মামলাটি সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠাতে পারেন। তিনি নিজেও বেঞ্চে থাকতে পারেন।
গ্রেফতারিকে শীর্ষ আদালত বৈধ বা অবৈধ যাই বলুক, তা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একাধিক বিরোধী নেতা, ব্যবসায়িক মহলের একাংশ অভিযোগ করেছেন, ইডি-সিবিআই মাত্রাতিরিক্ত সক্রিয়। অকারণে গ্রেফতার করে হেনস্থা করছে। বিরোধী দলনেতা হিসাবে লোকসভায় তাঁর প্রারম্ভিক ভাষণে রাহুল গান্ধী এই ব্যাপারে সরব হন। তাঁর সঙ্গে গলা মেলান বিরোধী শিবিরের বহু সাংসদ।