দেরাদুনের সেলাকুইয়ে সংঘর্ষে মৃত্যু ত্রিপুরার যুবকের, অভিযুক্তদের একজন মণিপুরের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে জাতি বা বর্ণবিদ্বেষের কোনও প্রমাণ মেলেনি, জানাচ্ছে দেহরাদুন পুলিশ।

অ্যাঞ্জেল চাকমা
শেষ আপডেট: 30 December 2025 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেরাদুনে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয় ত্রিপুরার অ্যাঞ্জেল চাকমাকে (Angel Chakma)। শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দেরাদুন পুলিশ (Dehradun Police)। উত্তাল দেশ, নিন্দায় সরব বিভিন্ন মহল। এরই মধ্যে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল পুলিশ। তাদের বক্তব্য, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জাতিগত বিদ্বেষ বা বর্ণবিদ্বেষের কোনও প্রমাণ মেলেনি।
এই ঘটনায় মোট ছ’জন অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আইন লঙ্ঘনে যুক্ত দুই নাবালককে (Juvenile) পরে সুরক্ষামূলক হেফাজতে রাখা হয়। একজন অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
দেরাদুন পুলিশ জানায়, তদন্তে আরও এক অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে, যিনি নেপালের (Nepal) বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই তিনি ফেরার। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তকে ধরিয়ে দিতে তথ্য দিলে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে তারা। পাশাপাশি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে নন-বেইলেবল ওয়ারেন্টও (Non-bailable warrant) জারি করেছে। একাধিক পুলিশ দল চেষ্টা চালাচ্ছে তাঁকে ধরতে।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ তুলে নানা পোস্ট ছড়ালেও, পুলিশ জানিয়েছে তদন্তে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। ৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঘটনার দিন থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেউই পুলিশ বা সংবাদমাধ্যমের কাছে জাতিগত গালিগালাজ বা বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ করেননি বলেই জানানো হয়েছে।
দেরাদুনের পুলিশ সুপার (SSP) অজয় সিং (Ajay Singh) জানান, এফআইআরেও জাতিগত বিদ্বেষ সংক্রান্ত কোনও অভিযোগের উল্লেখ নেই। তাঁর কথায়, “৯ ডিসেম্বর সুরজ খাওয়াসের (Suraj Khawas) জন্মদিনের পার্টিতে বন্ধুমহলে মজার ছলে কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল। সেই মন্তব্যগুলো ভুক্তভোগী পক্ষ আপত্তিকর বলে মনে করায় প্রথমে বচসা শুরু হয়।”
পুলিশ জানায়, ওই বচসার পরই দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি বাঁধে। সেই সংঘর্ষে অ্যাঞ্জেল চাকমা ও তাঁর ভাই মাইকেল চাকমা (Michael Chakma) গুরুতর জখম হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যাঞ্জেলের মৃত্যু হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের একজন সুরজ খাওয়াস মণিপুরের (Manipur) বাসিন্দা। আরেক অভিযুক্ত যক্ষরাজ (Yaksharaj) নেপালের। এক নাবালক বক্সা তফসিলি উপজাতিভুক্ত (Buksa Scheduled Tribe)। বাকি দু’জন অভিযুক্ত উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) বাসিন্দা।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বিস্তারিত বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এই ঘটনায়। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ-সহ (CCTV footage) সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন আধিকারিকরা। দেরাদুন পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে করা হচ্ছে। নতুন কোনও তথ্য বা প্রমাণ সামনে এলে তা নথিভুক্ত করা হবে। আইন অনুযায়ী, সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে এবং কোনও অভিযুক্তকেই রেয়াত করা হবে না।