
অধীর চৌধুরী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 16 May 2024 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস নেই। ভোটের ফলপ্রকাশের পর ডিগবাজি খেতে পারেন। তৃণমূল নেত্রীকে বৃহস্পতিবার এই ভাষাতেই ঠেস মারলেন বিদায়ী লোকসভার বিরোধী দলনেতা, রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীরের দাবি, লোকসভা ভোটের ফলে যদি বিজেপি অনেক আসন পায়, তাহলে মমতা পালটি খেয়ে ওদেরও সমর্থন করতে পারেন।
গতকাল, বুধবারই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম রূপকার মমতা হুগলিতে এক ভাষণে বলেছিলেন যে, ইন্ডিয়া জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন করবে তৃণমূল। এরই জবাবে অধীর বলেন, তিনি মমতাকে বিশ্বাস করেন না। উনি বাংলায় জোট ভেঙে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এনডিএ-কে সমর্থনের লাইনে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন।
আগামী সোমবার, ২০ মে লোকসভার পঞ্চম দফার ভোটের ঠিক মুখে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠে যাওয়ায় ফাটল যেন দীর্ঘতর হচ্ছে। তবে অধীর এও বলেন যে, মমতার এই কথাতেই প্রমাণ হয় যে, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটই ক্ষমতায় আসছে।
সংবাদ সংস্থাকে এক সাক্ষাৎকারে অধীর বলেন, বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য কংগ্রেসকে ধ্বংস করা। ওরা বলে বেড়াচ্ছে কংগ্রেস ৪০টির বেশি আসনে জিততে পারবে না। কিন্তু, মমতার কথায় একটা বিষয় পরিষ্কার যে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটই ক্ষমতায় আসছে।
ইন্ডিয়া জোট গঠনের সময় প্রথম থেকেই আম আদমি পার্টির নেতা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসন বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা চাইছিলেন। কিন্তু, দীর্ঘ অপেক্ষার পর কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে আলোচনা না করেই রাজ্যের ৪২টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে দেন। ফলে, অঙ্কুরেই জোট সম্ভাবনা জলে যায়। যদিও পাঞ্জাব ও দিল্লিতে কংগ্রেস-আপের আসন সমঝোতা সম্পূর্ণ হয়েছিল।
আচমকা বুধবার মমতার ওই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। অনেকের ধারণা, কংগ্রেস যদি সত্যিই কম আসন পায়, তাহলে জোটের চালিকাশক্তি আর তাদের হাতে থাকবে না। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব থেকে হাত গুটিয়ে নিতে পারে তারা। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলায় এবং বর্তমানে জেল হেফাজতে (আপাতত জামিনে মুক্ত) থাকায় এই তালিকা থেকে তিনিও বাদ।
সুতরাং, মেরেকেটে কয়েকটি আসনে জেতার সম্ভাবনা থাকলেও শারদ পাওয়ারকে তুলে ধরার চেষ্টা হতে পারে। সেই প্রস্তাব তুলতে পারেন খোদ মমতাই। কিন্তু, ধুরন্ধর রাজনীতিক পাওয়ার নড়বড়ে জোট সরকারের দায়িত্ব নেবেন কিনা সে ব্যাপারেও অনেকের সন্দেহ আছে। সেখানে মমতাও বিধানসভা ভোটের মাত্র ২ বছর আগে সরকার গঠনের ঝুঁকি নেবেন কিনা সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। অনেকের বিশ্বাস, সম্ভবত দূর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই তৃণমূল নেত্রী বাইরে থেকে সমর্থনের কথা বলেছেন। যা বিশ্বাস করতে নারাজ অধীর চৌধুরী।