মারিনো মনে করিয়ে দেন, পুলওয়ামার পর ভারতের বায়ুসেনার বালাকোট স্ট্রাইক, যেটাকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে ঢাকার চেষ্টা করেছিল, সেটি জইশকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 November 2025 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লা (New Delhi Red Fort) সংলগ্ন এলাকায় ১০ নভেম্বরের ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ (Suicide Blast) ভারতের নিরাপত্তা পরিমণ্ডলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইতালির অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিক (Italian Journalist) ফ্রান্সেসকা মারিনো (Francesca Marino) বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ দেখিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই হামলা মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পাকিস্তান ভিত্তিক (Pakistan) জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) বহুদিনের সাজানো নকশারই অঙ্গ।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে বিশেষ সাক্ষাৎকারে মারিনো বলেন, আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহৃত TATP বিস্ফোরক - যা ইউরোপে ‘মাদার অফ স্যাটান’ (Mother of SATAN) নামে পরিচিত, তা জইশের 'প্রতিশোধ-নীতির' সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে তিনি জানান, জঙ্গি গোষ্ঠী মূলত ৬ ডিসেম্বর, বাবরি মসজিদ (Babri Mosque) ধ্বংসবার্ষিকীর দিন হামলার পরিকল্পনা করেছিল এবং লক্ষ্যস্থল হতে পারত কোনও হিন্দু ধর্মীয় কেন্দ্র।
মারিনোর কথায়, ‘‘জইশ (JeM) আছে ভারতকে (India) নিশানা করার জন্যই। তারা হামলা না চালালে অর্থ ও অস্ত্রের জোগান কমে যায়।’’ তাঁর দাবি, জইশ বর্তমানে নতুন করে সংগঠন সাজাচ্ছে এবং সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয়, মহিলা আত্মঘাতী দল গঠনে মাসুদ আজহারের (Masood Azhar) বোনরাও জড়িত। মারিনোর কথায়, এর থেকেই বোঝা যায়, জইশ কতটা নাছোড়বান্দা হয়ে উঠেছে।
বালাকোট থেকে দিল্লি - নকশার সূত্রপাত
মারিনো মনে করিয়ে দেন, পুলওয়ামার (Pulwama) পর ভারতের বায়ুসেনার বালাকোট স্ট্রাইক (Balakot Airstrike), যেটাকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে ঢাকার চেষ্টা করেছিল, সেটি জইশকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। তাঁর বইয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁর বিশ্বস্ত সূত্র রাতের অন্ধকারে ৩৫টি মৃতদেহ সরাতে দেখেছিলেন। পাকিস্তানের সেনা এলাকা ঘিরে ফেলে, মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ক্যাম্প খালি করা শুরু করে।
‘‘পাকিস্তান (Pakistan) বলে গিয়েছিল যে ভারত নাকি শুধু গাছ কেটেছে। কিন্তু যে ধরনের বোমা নিক্ষেপ হয়েছিল, তাতে গর্ত না থাকা স্বাভাবিক - এটাই ছিল আসল প্রমাণ,’’ মারিনোর মন্তব্য। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নানা সংবাদমাধ্যম প্রমাণ ছাড়া পাকিস্তানের কথাই বিশ্বাস করেছে।
সাংবাদিকের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান আসিম মুনির (Asim Munir) দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র সেনানায়ক, যার নেতৃত্বে সেনা-আইএসআই (ISI) এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির যোগসূত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই প্রেক্ষিতেই তাঁর স্পষ্ট কথা - পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর টিকে থাকার জন্য শত্রু দরকার। আর সেই শত্রুই ভারত।