দ্য ওয়াল ব্যুরো: রতন টাটার নামের সঙ্গে যেন একসূত্রে গাঁথা দানশীলতার প্রসঙ্গ। কারণ কর্পোরেট সাম্রাজ্যের এই মহীরূহ শুধু ব্যবসাই গড়েননি, পাশাপাশি মানবসেবাকেও জীবনের মূলমন্ত্র করে তুলেছেন। তাই মৃত্যুর পরেও তাঁর সেই দানশীলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তাঁর উইল বা শেষ ইচ্ছাপত্রে।
২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর প্রয়াত হন টাটা গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রতন টাটা। তাঁর উইল অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ সম্পদ তিনি উৎসর্গ করেছেন জনকল্যাণমূলক কাজে। তবে নিজের পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী এবং এমনকি নিজের পোষ্যদের কথাও তিনি ভুলে যাননি। কিন্তু কৌতূহলের বিষয় হল, তাঁর কাছে যে তিনটি পিস্তল ছিল, সেগুলি তিনি কাকে দিয়ে গেছেন?
উইল থেকে জানা গেছে, রতন টাটার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মেহলি মিস্ত্রি পেয়েছেন টাটার তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র। এগুলির মধ্যে রয়েছে একটি .২৫ বোর পিস্তল! টাটা তাঁর উইলে উল্লেখ করেছেন, মিস্ত্রির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর ছিল এবং এই উপহার তাঁদের স্মৃতির প্রতীক হয়ে থাকবে। পাশাপাশি মেহলি পেয়েছেন আলিবাগের একটি সম্পত্তিও। টাটার উইলে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, মিস্ত্রি এই সম্পত্তি পেতে তাঁকে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন এবং এটি তাঁর জীবনের বিশেষ স্মৃতির অংশ।
রতন টাটার উইলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, কেউ যদি এই উইল নিয়ে কোনও আইনি প্রশ্ন তোলে, তবে তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে কোনও সম্পদ বা সুবিধা পাবেন না। উইলের এই ‘নো কনটেস্ট’ ধারা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে,টাটার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩,৮০০ কোটি টাকা। এর বড় অংশই দান করা হয়েছে রতন টাটা এন্ডোমেন্ট ফাউন্ডেশন ও রতন টাটা এন্ডোমেন্ট ট্রাস্ট-এ। মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা ও সমাজকল্যাণে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
পাশাপাশি, টাটার দুই সৎবোন শিরিন জিজিভয় ও ডিয়ানা জিজিভয়কে উইলের মাধ্যমে ৮০০ কোটি টাকার ব্যাংক এফডি, শেয়ার ও মূল্যবান সামগ্রী দিয়েছেন তিনি। টাটা গ্রুপের প্রাক্তন কর্মী মোহিনী এম দত্তও পেয়েছেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ। রতন টাটার দাদা জিমি নাভাল টাটা পেয়েছেন জুহু বাঙলোর একটি অংশ, রুপোর তৈরি কিছু মূল্যবান সামগ্রী ও গয়নাগাঁটি।
রতন টাটার প্রাণীপ্রেম সর্বজনবিদিত। নিজের প্রিয় পোষ্যদের জন্যও তিনি উইলে ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছেন, যাতে তাঁদের যথাযথ যত্ন হয়। এই তহবিল থেকে প্রতি তিন মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে পোষ্যদের দেখভালের জন্য।
রতন টাটা শুধু একজন সফল শিল্পপতি ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক মানবতাবাদী, যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সমাজের কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোকেও তিনি যথাযথ সম্মান দিয়েছেন। পরিবার, কর্মচারী, পোষ্য এমনকি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর জন্যও রেখে গেছেন ভালবাসার উপহার।