
রাহুল গান্ধী এবং জয়শঙ্কর
শেষ আপডেট: 6 August 2024 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিংসার আগুন জ্বলছে বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের এই অশান্তি-হিংসার পিছনে কী অন্য কোনও দেশের মদত রয়েছে? বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনে পাকিস্তান ও চিনের যোগ রয়েছে, নানা মহল থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এবার সর্বদল বৈঠকে এই নিয়ে প্রশ্ন তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সরাসরি বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।
পড়শি দেশের হিংসাত্মক পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ভারত সরকার। গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভারতের আগামী পদক্ষেপ ঠিক করতে মঙ্গলবার সর্বদল বৈঠক ডাকে মোদী সরকার। এনডিএ-র সাংসদদের পাশাপাশি এদিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী জোটের একাধিক সাংসদও। কংগ্রেসের তরফে বৈঠকে যোগ দেন রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গে। এই বৈঠকেই বাংলাদেশ ইস্যু নিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন রাহুল।
Briefed an All-Party meeting in Parliament today about the ongoing developments in Bangladesh.
— Dr. S. Jaishankar (@DrSJaishankar) August 6, 2024
Appreciate the unanimous support and understanding that was extended. pic.twitter.com/tiitk5M5zn
এদিন আলোচনার শুরুতেই বিদেশমন্ত্রীর কাছে রাহুল গান্ধী জানতে চান, "বাংলাদেশের পরিস্থিতির নেপথ্যে বিদেশি কোনও শক্তির হাত আছে? বিশেষ করে পাকিস্তানের?" জবাবে জয়শংকর বলেন, "বিষয়টি এখনই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"
একইসঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান কী হতে চলেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন রাহুল। জয়শংকর জবাব দেন, “এখনই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রয়েছে।"
বাংলাদেশে যে এমন পরিস্থিতি হতে চলেছে, তা কি ভারত সরকার আগে আঁচ করতে পেরেছিল? এই প্রশ্নও করেন রাহুল গান্ধী। বিদেশমন্ত্রী জবাবে দেন, "কেন্দ্র পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। তাঁর কথায়, “আমরা বাংলাদেশ সেনার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি। বর্তমানে সেখানে ২০ হাজার ভারতীয় রয়েছেন। যার বেশিরভাগই পড়ুয়া। এদের অশান্ত বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।”
এছাড়াও বর্তমানে ভারতে থাকা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যে কেন্দ্র উদ্যোগী তাও সরকারের তরফে বিরোধী শিবিরকে জানানো হয়। বিরোধীরাও এই বিষয়ে অবশ্য সরকারের সঙ্গে একমত। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মোদী সরকারকে সব রকমের সমর্থন জানাবে বলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিরোধীরা।
কোটা সংরক্ষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মাস দুয়েক আগে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের দাবি মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু এরপর এক দফা দাবিতে হাসিনাকে গদিচ্যুত করতে রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা। রবিবার থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সোমবার পরিণতি চরমে পৌছয়। দেশ ছেড়ে আপাতত ভারতেই আছেন শেখ হাসিনা।