
শেষ আপডেট: 1 March 2024 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শোনা যাচ্ছিল। গুঞ্জন এবার বাস্তব হতে চলেছে। পরিণত হতে চলেছে। সাক্ষী একাধিক পোস্টার। কংগ্রেসের দুর্গ রায়বেরেলি থেকে প্রথমবার লোকসভা ভোটে প্রার্থী হতে পারেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মা সনিয়া গান্ধীর তৈরি করে যাওয়া বাগানের নরম সবুজ ঘাসে পা রাখতে চলেছেন প্রিয়ঙ্কা। স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলি লোকসভা কেন্দ্রটি ভারতবাসীর কাছে অতি পরিচিত। এবার সেই 'নিরাপদ আসনে' দাঁড়িয়ে লোকসভা ভোটে হাতেখড়ি হবে প্রিয়ঙ্কার। এমনটা দীর্ঘদিন ধরেই কানাঘুষো চলছিল। কিন্তু, এখন রায়বেরিলির আনাচেকানাচে প্রিয়ঙ্কার ছবিসহ তাঁকে প্রার্থী চেয়ে পোস্টার-ফ্লেক্স পড়ায় সেই জল্পনা আরও দৃঢ় হয়েছে।
রায়বেরিলি কি ইয়েহি পুকার...প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আবকি বার...লিখে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক ছাত্র নেতা বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার দিয়েছেন। রাজনীতি করেন না, স্থানীয় এমন অনেকেরই এই দাবিতে সায় আছে। যেমন জেলা আদালতের এক আইনজীবী শিব কুমার বললেন, কংগ্রেসের নিজের ঘর রায়বেরিলি। এই শহরের সঙ্গে নেহরু-গান্ধী পরিবারের ওতপ্রোত সম্পর্ক। এই পোস্টার তারই পরিণাম।
শহরের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাধব সিং বলেন, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এখান থেকে দাঁড়ালে জিতে যেতে পারেন। কারণ এখানকার মানুষ বরাবরই গান্ধী পরিবারের দিকে ঝুঁকে থাকেন। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি, যিনি বারাণসীতে ফের একবার মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে পারেন, সেই অজয় রাই বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠতাই এই পোস্টারে ফুটে উঠেছে। দলের কর্মীদের আবেগ ঘিরে রয়েছে এই কেন্দ্রকে নিয়ে। যাতে গান্ধী পরিবারেরই কেউ এখান থেকে প্রার্থী হন। প্রিয়ঙ্কাজি রাজি থাকলে আমরা তৈরি। প্রসঙ্গত, সনিয়া গান্ধী সদ্য লোকসভার সদস্যপদ ছেড়ে রাজ্যসভায় চলে যাওয়ায় রায়বেরিলি কেন্দ্রটি আপাতত ফাঁকা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সাল থেকে এই কেন্দ্রটি কংগ্রেসের খাসজমিতে পরিণত হয়েছে। প্রথমে ফিরোজ গান্ধী (প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর ঠাকুরদা), তারপর আরপি সিং এবং বৈজনাথ কুরিত, অবশেষে ইন্দিরা গান্ধী দুবার এখান থেকে জেতেন। শুধু ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টির উত্থানে রাজনারায়ণ এই কেন্দ্রটি ছিনিয়ে নেন। তিন বছর পর আবার ইন্দিরা এই কেন্দ্র থেকে জেতেন। তাঁর পরেও অরুণ নেহরু দুবার, শীলা কৌল দুবার জেতেন। ১৯৯৬ এবং ৯৮ সালে বিজেপি জিতলেও ১৯৯৯ সালে ফের রাজীব ঘনিষ্ঠ সতীশ শর্মা রায়বেরিলির সাংসদ হন। ২০০৪ সাল থেকে এই কেন্দ্রের এমপি সনিয়া গান্ধী।
তাই রায়বেরিলি নিয়ে ১০ জনপথেরও একটি আবেগের জায়গা রয়েছে। যাওয়ার আগে সনিয়া এক আবেগঘন বার্তায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই কেন্দ্র থেকে পরিবারেরই কাউকে দাঁড় করানো হতে পারে।