Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটো

তিরুপতি লাড্ডু কাণ্ড: গো-রাজনীতিতে বিজেপির দ্বিচারিতা

শুধু গোঁড়া হিন্দুরাই নন, সাধারণ হিন্দুরাও আঁতকে ওঠেন এই ভেবে যে, তাহলে বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতার জাত বুঝি চলে গেল।

তিরুপতি লাড্ডু কাণ্ড: গো-রাজনীতিতে বিজেপির দ্বিচারিতা

গোটা দেশ এনিয়ে তোলপাড়

শেষ আপডেট: 27 September 2024 18:34

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিরুপতির লাড্ডুকে কেন্দ্র করে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন হিন্দুত্ববাদী দল ও সংগঠনগুলির ধর্মকে রাজনীতির অস্ত্র করার পিছনে এক বিরাট ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই। বিশেষ গোরক্ষণবাদী সমর্থকদের গোমাংস ও পশুর চর্বি রফতানির নীতিতেও দ্বিচারিতার দুর্গন্ধ মিলছে। তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমের শ্রীবেঙ্কটেশ্বর স্বামীর প্রসাদী লাড্ডু তৈরি ঘিতে পশুর চর্বি এবং মাছের তেল আছে বলে যেদিন অভিযোগ তোলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, সেইদিন থেকে গোটা দেশ এনিয়ে তোলপাড় হয়ে যায়।

শুধু গোঁড়া হিন্দুরাই নন, সাধারণ হিন্দুরাও আঁতকে ওঠেন এই ভেবে যে, তাহলে বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতার জাত বুঝি চলে গেল। তেলুগু দেশম পার্টি, তার শরিক দল জনসেনা এবং বিজেপি বাক্য-কাটারি নিয়ে আগের জগনমোহন রেড্ডিকে তাক করে ময়দানে নেমে পড়ে। বর্তমান শাসক জোটে তরফে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ধর্মবিশ্বাস নিয়ে টিপ্পনি শুরু হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি বুঝেশুনে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সুপ্রিমো রেড্ডি তিরুপতি মন্দির দর্শনে যাওয়াও শুক্রবার বাতিল করে দিয়েছেন। কারণ হিন্দুত্বের মেরুদণ্ড বলে স্বঘোষিত কোম্পানিগুলি একে খ্রিস্টানদের চক্রান্ত প্রমাণে উঠেপড়ে লেগেছে। যে আগুনের ফুলকি হল রেড্ডির খ্রিস্টীয় ধর্মবিশ্বাস।

কিন্তু, এই হইহল্লার মাঝে যে বিষয়টি হারিয়ে গিয়েছে তা হল কেন্দ্রীয় শাসক জোট এনডিএ এমন একটি শিল্পকে পিছন থেকে মদত দিয়েছে যা ঘিতে ব্যবহৃত সস্তার ভেজাল দ্রব্য তৈরির প্রধান উপকরণ। তা হল গোরু-মহিষের চর্বি।

সেন্টার ফর অ্যানালিসিস অ্যান্ড লার্নিং ইন লাইভস্টক অ্যান্ড ফুডস (CALF) ল্যাবরেটরি উল্লিখিত ১৪টি ভেজালের তালিকায় রয়েছে গোরুর চর্বি। উল্লেখ্য, এই সংস্থাতেই তিরুমালার ঘি পরীক্ষা করা হয়েছিল। কী ছিল ওই রিপোর্টে? ওই রিপোর্টে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এক, ওতে ভুয়ো কিছু থাকার সম্ভাবনা আছে। দুই, গোরুর চর্বি (অথবা মাছের তেল, পাম তেল, রেপসিড কিংবা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভোজ্য তেল) থাকার সম্ভাবনা আছে, তবে সেটাই যে আছে তা বলা যায় না।

তাহলে কাফ নামের ওই সংস্থা চর্বি মেশানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল না কেন? পশুবিজ্ঞানী সাগরী রামদাসের মতে, এদেশে গোরু এবং মহিষ প্রধানত খড়, ভূষি, তুলোবীজ এবং বাদাম খাওয়ানো হয়। যার স্যাপোনিফিকেশন রেঞ্জ (যা ফ্যাটি অ্যাসিডের মলিকুলার ওয়েট পরিমাপ করে) পাম তেল এবং গোরুর চর্বির সমতুল। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে আরও অনেক পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

এমনকী কাফের রিপোর্টের অ্যানেক্সচারে রয়েছে, যদি ঘি তৈরি করা দুধ এমন গোরুর থেকে নেওয়া হয়ে থাকে যাকে/যাদের অসম্ভব উচ্চ সামর্থ্যযুক্ত খাবার দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে অন্যান্য তেল জাতীয় গুণাবলির সঙ্গে তেমন তফাত বেরনো মুশকিল। কিন্তু বিজ্ঞান নিশ্চয়তা দিতে না চাইলেও তাতে টিডিপি, জনসেনা কিংবা বিজেপিকে রোখা যায়নি। সনাতন ধর্ম রক্ষায় এখন সকলেই উঠেপড়ে লেগেছেন।

বিজ্ঞানের অস্বীকার একটা দিক। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তার থেকেও ভয়ানক। যা দেশের মাংস-চর্বি ব্যবসার সত্যের মুখে চাদর চড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই ভুলে গিয়েছেন, বিজেপি সেই দল, যারা ২০১৪ সালে গোরু-মহিষের চর্বি রফতানিতে অনুমোদন দিয়েছিল। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাত্র ৭ মাসের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় তা ছাড়পত্র পায়।

অথচ, সে বছর লোকসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফকে বিভিন্ন পশুহত্যার জন্য হাড়িকাঠে তোলেন। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে প্রচারে পশু মাংস রফতানির জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করে প্রচারে তিনি 'গুলাবি ক্রান্তি' (রেড মিট বিপ্লব) শব্দটিও প্রয়োগ করেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার মাত্র ৭ মাস যেতে না যেতেই ২০১৪ সালে ডিসেম্বরে মোদী সরকার গো-মহিষের মাংস রফতানিতে অনুমতি দেয়।

বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৩-২৪ সালে ভারত ১২৯.৫৬ কোটি কেজি গোরু-মহিষের মাংস রফতানি করে ৩১ হাজার কোটি টাকা আয় করে। যেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ ২০১৩-১৪ সালে ১৩.৬৫ লক্ষ টন রফতানিতে আয় হয়েছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা।

বিজেপির এই গো-রাজনীতি দ্বিচারিতা নতুন নয়। ১৯৮৩ সালে জুলাইতে ইন্দিরা জমানাতেও বনস্পতিতে চর্বি মেশানোর অভিযোগে উত্তাল হয় দেশ। যার ফলে দেশজুড়ে রাতারাতি ওই কোম্পানির তো বটেই, সব মিলিয়ে বনস্পতি বিক্রি তলানিতে ঠেকে। তৎকালীন বাণিজ্য মন্ত্রী বিশ্বনাথপ্রতাপ সিং লোকসভায় বলেন, শুধু গোরুর চর্বি নয় যে কোনও পশুর চর্বি নিষিদ্ধ হল। তার মধ্যে ছাগল-খাসির চর্বিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তৎকালীন কংগ্রেস সরকার এই ঘটনার পিছনে বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের কানাঘুষো অপপ্রচারকে দায়ী করে। এর পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চর্বি রফতানি নিষিদ্ধের তালিকায় ছিল। যামিনী নারায়ণ নামে এক বিশেষজ্ঞ তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন, কসাইখানাগুলিকে আধুনিক করে তুলতে ১০০ শতাংশ ভরতুকি ও কর ছাড়ের প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্র। বিশাখা সোসাইটি ফর প্রোটেকশন অ্যান্ড কেয়ার অফ অ্যানিম্যালস-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রদীপকুমার নাথ বলেন, ভেজালের জন্য চর্বি ব্যবহারের মূল কারণ এ অত্যন্ত সস্তা উপকরণ। যখন মাংস রফতানি বাড়তে থাকবে তখনই ভেজালের জোগানও স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে।

গোরু-মহিষের চর্বির আরও একটি ব্যবহারিক প্রয়োগ আছে, তা হল বায়োডিজেল শিল্পে দেশে-বিদেশে এটা কাজে লাগে। যখনই দুধ দেওয়া গোরু-মহিষ আর সন্তানধারণ করতে পারতে না, তখনই মালিক সেটা কসাইখানায় বেচে দেন। এটাও মাংস ও চর্বি উৎপাদনের অন্যতম উৎস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মাংস রফতানি যে কেবলমাত্র একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে তা অসত্য। তা ঠিক নয়। আমার অনেক বন্ধু যারা জৈন ধর্মে বিশ্বাসী, তারাও এই ব্যবসা করে। এই ব্যবসাকে কোনও একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বেঁধে ফেলবেন না।


```