
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 September 2024 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হতাশা থেকে ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের আগুনই দাউদাউ করে জ্বলছে আর জি কর কাণ্ডে। ভারতের যুবসমাজ এই হতাশাজনিত নীরব ঘাতকের হাতে তিলতিল করে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। যার পরিণতি গড়াচ্ছে আত্মহননের পথে। একটি সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতীয় যুবরাই সবথেকে বেশি আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।
মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর দিনটি প্রতিবছর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়। এদিনই প্রকাশিত এক সমীক্ষা বলছে, এদেশে প্রতিবছর ১,৭০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয় আত্মহত্যার কারণে। যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হেলদোল পড়ে গিয়েছে। দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত ওই রিপোর্টে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
মানুষ যত আধুনিক থেকে আধুনিকতর জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, ততই তাদের মধ্যে বাড়ছে নিঃসঙ্গতা, হতাশা, বিষাদ সর্বোপরি স্বীকৃতির অভাববোধ। তা সে সংসার হোক কিংবা বাইরের কর্মজগতে। বিশেষত ভারতের তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে এই অসুখ মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে। তার প্রধান কারণ বেকারত্ব, কর্মহীনতা, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ সংকোচন ইত্যাদি।
সমীক্ষা বলছে, বিশ্বে প্রতিবছর ৭ লক্ষ প্রাণ অকালে চলে যায় আত্মহত্যার ফলে। যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত। শুধুমাত্র ২০২২ সালেই ১ লক্ষ ৭১ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেছেন ভারতে। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী প্রতি লক্ষ মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার হার ১২.৪ শতাংশ। যা দেশের সর্বকালের রেকর্ড।
এ বছর যে থিমে দিনটি পালিত হল তা ছিল কীভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা রোখা যাবে এবং কীভাবে নিজেকে এই পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা যাবে। ল্যানসেটে প্রকাশিত ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আত্মহত্যাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু, আত্মহত্যা হল একটি জটিল জনস্বাস্থ্যের ইস্যু। তাই আত্মহত্যা রুখতে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা যে যে বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন সেগুলি হল- দারিদ্র্য, ঋণ, গার্হস্থ্য হিংসা, আসক্তি এবং সামাজিক নৈঃসঙ্গ ভারতে আত্মহত্যার অন্যতম কারণ। এর ভিতরে তরুণ-যুবক বয়সে আত্মহত্যা বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে ৩০ বছর বয়সের নীচে। প্রতি ৮ মিনিটে একজন তরুণ-যুবক আত্মহত্যা করেন এদেশে। যা পরিবার, সমাজ এবং দেশের পক্ষ অপূরণীয় ক্ষতি।
সমীক্ষায় স্পষ্ট যে, ভারতে অল্প বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতার অন্যতম কারণ কর্মহীনতা। বিশেষত তা মহিলার ক্ষেত্রে। কর্মহীন মহিলাদের লাখের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৯৪.৮ শতাংশ। চাকরিরতাদের তুলনায় যা অনেক বেশি।