
শেষ আপডেট: 7 November 2023 19:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রশ্মিকা মান্দানার ডিপফেক-কাণ্ডে এবার কড়া বার্তা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁরা যাঁরা ডিপফেকের শিকার হবেন, তাঁরা প্রত্যেকে যেন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মাধ্যমে তাঁদের সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র।
সম্প্রতি অভিনেত্রী রশ্মিকা মান্দানার একটি ভুয়ো ভিডিও নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে অভিনেত্রীকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরেই জানা যায়, সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। অন্য একজনের ভিডিওতে রশ্মিকার মুখ বসিয়ে সেই জাল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
সেই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন রশ্মিকার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন এবং অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি করেন। মুখে খুলেছেন আসল ভিডিওটি যাঁর, সেই মহিলাও। জারা প্যাটেল নামে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ওই ব্রিটিশ মহিলা জানিয়েছেন, রশ্মিকার সঙ্গে হওয়া এই ঘটনায় তিনি বিরক্ত এবং চূড়ান্ত হতাশ।
এই ঘটনাপ্রবাহের মাঝেই তথ্যপ্রযুক্তির এমন অপব্যবহারকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, ভুল তথ্যপূর্ণ কন্টেন্ট দেখতে পেলে তা ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকানো অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির কাছে আইনি বাধ্যবাধকতা। তিনি আরও জানিয়েছেন, কোনও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কিংবা সরকারের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে এই ধরনের বিষয়বস্তু মুছে ফেলতে হবে।
কোনও কারণে যদি এই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হ্যাভ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলি, তাহলে আইনি ঝামেলাযা পড়তে হবে তাদের। চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, সরকার নাগরিকদের, বিশেষ করে যেসব শিশু এবং মহিলারা এই ধরনের বিষয়বস্তুর 'টার্গেট' হয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা এবং ভরসার প্রশ্নটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ডিপফেক তৈরি এবং প্রচারের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে আইনে। এমন অপরাধের জন্য ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং তিন বছরের জেল হতে পারে।